অবশেষে আসছে নূর হোসেন

91
Spread the love

43299_2স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ফেরত দেবে ভারত। কিন্তু নূর হোসেন অনুপ্রবেশের মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় তাকে সরাসরি ভারত সরকার বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ ছিল। এর জন্য দরকার হয়ে পড়েছিল আদালতের অনুমতির। শেষ পর্যন্ত তাও মিলল। গতকাল শুক্রবার পশ্চিম বঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ চক্রবর্তী আসামিকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ফলে তাকে ফেরত দিতে আর কোনও আইনি জটিলতা রইল না। অবশ্যই, এর আগে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে চলমান সব মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন আদালত। ওই নির্দেশের ফলে নূর হোসেনকে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত দেবে ভারত। নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইতোপূর্বে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চলমান অনুপ্রবেশের মামলা তুলে নিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২১ ধারায় আবেদন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারি আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন দে আবেদনে বলেন, নূর হোসেন বাংলাদেশের একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও রয়েছে। তিনি ভারতে অবৈধভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে বিদেশি আইনে মামলা রুজু করা হয়েছিল। আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার নূর হোসেনকে দেশে বিচারের জন্য ফেরত চেয়েছে। তাই অনুপ্রবেশের মামলা তুলে নিয়ে তাকে নিজের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম সে সময় অভিযোগ করেন, র‌্যাবকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পরে র‌্যাবের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তার সত্যতা পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন এবং র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে নিরুদ্দেশ হন নূর হোসেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ জুন কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালি এলাকার একটি বাড়ি থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়। ভারতীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, শিগগিরই আদালতের আদেশ কার্যকর করা হতে পারে। আদালতের এই আদেশ বলে, ভারত সরকার পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্তে এনে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেবে নূর হোসেনকে। ভারত এর আগেও এই ধরনের বন্দি প্রত্যর্পণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাকুড়ার গুলিবর্ষণের ঘটনার গ্রেফতার হওয়া পিটার ব্লিচকে ভারতর জেলে থেকে বের করে একইভাবে ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল। ব্লিচকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ সরকার আহ্বান জানায়। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারি বাজপেয়ী। এদিকে গতকাল শুক্রবার ভারতের আদালতের এমন নির্দেশে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহল। আদালতের রায় শোনার পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নূর হোসেনকে আনার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মুঠোফোনে বলেন, নূর হোসেনকে ফেরত আনতে আমরা প্রস্তুত হয়ে আছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখনই আমাদের জানাবে তখনই তাকে আনতে চলে যাবে আমার টিম। তিনি বলেন, প্রথমে টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে খবরটি জেনেছি। জানার পরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি প্রস্তুত হওয়ার জন্য। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া আছে। এখন নির্দেশনা পেলেই নূর হোসেনকে ফেরত আনার কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Spread the love