অভাবের তাড়নায় ভিক্ষাবৃত্তি

132
Spread the love

president-of-howkers-leagueকবির আহমদ : ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী গণ আন্দোলনে জেল জুলুমের শিকার, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্যাতিত পার্বতীপুর উপজেলা হকার্স লীগের সভাপতি বয়োবৃদ্ধ হাশেম আলী (৬৫) এখন চরম দারিদ্র্যতার কবলে পড়ে রোগ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাকে দেখার কেউ নেই। তিনি পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনের ১নং প্লাটফরমে রোগ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে শুয়ে শুয়ে লোকজনের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করছেন। বুধবার দুপুরে হাশেম আলীকে পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ইয়ংস্টার ক্লাবের সভাপতি আমজাদ হোসেনের সহায়তায় তাকে হলদীবাড়ী হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, পার্বতীপুর পৌর এলাকার ধুপিপাড়া মহল্লায় হাশেম আলীর বসবাস। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী ও এক মাত্র কন্যা মৃতুবরণ করে। বিভিন্ন ট্রেনে ও রেল স্টেশন এলাকায় কবিরাজী ওষুধ, চকলেট, দাঁতের মাজন প্রভৃতি বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। দৈনন্দিন সংসার খরচের চাহিদা পূরণ হলেই তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেন। অতীতে পার্বতীপুরে আওয়ামী লীগের প্রতিটি বিক্ষোভ মিছিলে তাকে প্রথম সারিতে দেখা যেত। বছর দুয়েক হলো তিনি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হন। ফলে তার আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হাশেম আলী ক্ষীণ কণ্ঠে বলেন- স্টেশনের ১নম্বর প্লাটফরমে শুয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করলেও নিজ দলের কেউ তার খোজ নেয়নি। তবে ফিজার ভাই (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান) এলাকায় এলে কখনও কখনও কিছু টাকা দিতেন বলে তিনি জানান। পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, সরকারের সুবিধাভোগী অনেক বিত্তশালী রয়েছেন। সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মীই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। কিন্তু কেউ হাশেম আলীর খোজ রাখার প্রয়োজন এখন আর মনে করেন না। এ অবস্থায় হাশেম আলীর জীবিকা নির্বাহ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সুদৃষ্টি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।


Spread the love