অভয়নগরের ভৈরব নদের ভাঙন অব্যাহত

94
Spread the love

bd1অভয়নগর যশোর প্রতিনিধি : ভৈরব নদ অভয়নগর এলাকায় অব্যাহতভাবে ভেঙে চলেছে। এ ভাঙনে পরিবর্তন হচ্ছে নদীর গতিপথ। অথচ নদী দখলদারেরা রয়েছে বহালতবিয়তে। ১৯৬২ সালের ভৈরব নদের মানচিত্র অনুযায়ী এক তৃতীয়াংশ জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ রহস্য জনক কারণে নিরব রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভৈরব নদের ভাঙনে নদের তীরবর্তী নওয়াপাড়া বন্দর এলাকা, ফুলতলা উপজেলার উত্তরডিহি ও পায়গ্রাম কসবা গ্রাম এলাকায় সমাজের পুজিপতি ও প্রভাবশালীরা নদীর জায়গা দখল করে নির্মাণ করেছে শিল্প কলকারখানা, বাণিজ্যিক ভবনসহ আবাসিক এলাকা। যে কারণে নদীর ¯্রােতের গতিধারা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জোয়ারের সময় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি ভাঙন রোধে নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করলেও তারা কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি।
গতবছর নৌ-পরিবহন মন্ত্রি শাহজাহান খান নওয়াপাড়ায় আসলে তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তিনি তাৎক্ষণিক বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। যার ফলে নদী পাড়ের ভাটপাড়া, পাইকপাড়া, মাঝিপাড়া, নিকারীপাড়া ও ভুগিলহাট অঞ্চলের শত শত বিঘা জমি, ঘরবাড়ি, পাকা রাস্তা, মসজিদ, মন্দির ও শ্মশান একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সোমবার সকালে সরজমিনে ভাটপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দুই বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা মিল-কল কারখানা নদীর জায়গা দখলের কারণে ¯্রােতধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। যার ফলে ২০০ ফুট দূরের পাকা রাস্তা অনেকাংশে ভেঙ্গে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে-বাকিটুকুও যাওয়ার পথে।
এলাকাবাসী জানান, এসব এলাকার বীরেশ্বর ফকির, পাইকপাড়ার রহিমুন বেগম, মৃত বিমল বিশ্বাস, মৃত কাশেম সরদার, কফিল উদ্দিন, রবিউল শেখ, হোসেন মোল্যা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রাজ্জাক, হারান বিশ্বাস, মৃত হোসেন আলী, তোফাজ শেখ, আতিয়ার শেখ, আনছার মাস্টারসহ অসংখ্য মানুষের শত শত বিঘা ফসলী ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই যদি ভাঙন রোধে প্রতিরক্ষা বাধ দেয়া না হয় তাহলে উত্তর পুর্বাঞ্চলের শত শত পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Spread the love