‘আইএস মেইড ইন যাত্রাবাড়ি ও টঙ্গী’ খুলনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপচিালক

86
Spread the love

bdখুলনা প্রতিনিধি : র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)’র মহা-পরিচালক বেনজির আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে আইএস’র কোন অস্তিত্ব নেই। দেশে আইএসের যা রয়েছে তা মেইড ইন যাত্রাবাড়ি ও মেইড ইন টঙ্গী। সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আইএস নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। কেউ কেউ নাম ব্যবহার করছে। না হলে যেসব ঘটনায় আইএস দ্বায় স্বীকার করেছে, সেগুলো ইন্টারন্যাশনাল উইং থেকে পাঠানোর কথা। কিন্তু সেগুলো এসেছে যাত্রাবাড়ি ও গাজীপুরের টঙ্গী থেকে। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজে বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস বিফ্রিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। র‌্যাব ডিজি বলেন, আইএস-এর সাথে বাংলাদেশ ও এখানকার জনগণের কোন দ্বন্দ্ব নেই, দেশের বিরুদ্ধে সুদুর প্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বার বার আইএস-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হচ্ছে। আর যারা আইএস’র নাম ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, গত ৫/৬ সপ্তাহে ৮টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২জন বিদেশীর পাশাপাশি একজন প্রকাশককে ও দুইজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। একটি চক্র এসব কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে আবারও ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ সকল ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বেনজির আহম্মেদ আরও বলেন, আইএস কেন বাংলাদেশে আসবে। তাদের কী স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের কোন কনফিক্ট নেই। তারপরও কেউ যদি আইএসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা বা চেষ্টা করে সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি বলেন, পুলিশ হত্যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ঘাটতি ছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও কোন গাফলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গেল কয়েক মাসে ৫৭ জন জেএমবি সদস্য, ১০৯ জন হোজিসহ অন্যান্য দলের সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকল বাহিনী কাজ করছে। তাই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে দেশ ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ চক্র বাধাগ্রস্ত করতে আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করে বেনজীর আহমেদ বলেন, দুইজন যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করা নিয়ে কিছুটা ঝুঁকি ও হুমকি থাকবে বা আছে সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ইকোনোমিক প্লান রয়েছে। তা বিবেচনায় নিয়ে র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পরিকল্পনা ঠিক করছে। দেশের মানুষের আতঙ্ক দূর করতে এবং ২০১৩ সালের মত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কেউ দুঃসাহস না দেখাতে পারে, সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রেখে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খুলনা অঞ্চলের মানুষ যাতে আতঙ্ক মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারে, সে বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। প্রেস বিফ্রিংকালে বিভাগীয় কশিনার আব্দুস সামাদ, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান, সিনিয়র এসপি হারুন অর রশীদ ও মেজর রইসুল আজম মনিসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


Spread the love