আইসিসির কাছে যাবেন বিসিবি সভাপতি: নাজমুল হাসান পাপন

78
Spread the love

IMG_20151002_220557_392নাঈম হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : অস্ট্রেলিয়া যে বাংলাদেশে আসছে না, সেটা অনেকটা অনুমেয়ই ছিল। কিন্তু গতকাল দুপুরের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অফিসে হঠাৎ করেই ক্ষীণ একটা আশার আলো দেখা যায়। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী দুপুর ২টার দিকে জানান যে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নাকি দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসেছে। এ খবরে অনুশীলনে থাকা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মাঝেও একটা চনমনে ভাব লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আসে দুঃসংবাদটা। প্রধান নির্বাহী জানিয়ে দেন, এই মাত্র ফোনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সফরটি তারা স্থগিত করেছে। এর পরই প্রতিক্রিয়া জানাতে গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এমন সংবাদে তিনি স্বভাবতই মর্মাহত এবং ব্যথিত । তবে বিসিবি সভাপতি জানান, তাই বলে হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না তিনি। ৯ অক্টোবর আইসিসির বৈঠকের সময় অস্ট্রেলিয়ান বোর্ডের কর্তাদের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আর এসব সন্ত্রাসী হুমকির মাঝেও কেমন করে ক্রিকেটকে মাঠে রাখা যায় সে ব্যাপারে আইসিসির কাছে পরিকল্পনা নেওয়ার জোর দাবি জানাবেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার সিরিজটি না হওয়ায় গতকাল হতাশা আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমি নিজেই কিন্তু নিশ্চিত নই যে, কেন তারা সফরটা স্থগিত করল। আমরা যে ধরনের নিরাপত্তার প্রস্তাব করেছিলাম সেটা রীতিমতো নিশ্ছিদ্র। রাস্ট্রপ্রধানদের এ ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এই নিরাপত্তায় আমি অন্তত দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, তাদের খেলোয়াড়দের বা আমাদের খেলার মধ্যে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার কোনো সুযোগই ছিল না। বাংলাদেশে এটা অসম্ভব। আমরা যদি অপ্রস্তুত থাকি, সেটা একটা জিনিস। কিন্তু আমরা সতর্ক হওয়ার পর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে পারে, সে ধরনের কোনো সম্ভাবনা বাংলাদেশে নেই। তার পরও তারা সফরটা স্থগিত করেছে। সেজন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত এবং ব্যথিত। বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটা সবচেয়ে ভালো সময় এখন আমাদের যাচ্ছিল। আর এ সময়টায় এ ধরনের একটা দুঃখজনক ঘটনা আমাদের ক্রিকেটে ঘটল। সেজন্য আমরা অত্যন্ত ব্যথিত।’ আরো জানা যায়, তবে নাজমুল হাসান পাপনের বিশ্বাস, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কথা বলে আবার সিরিজটি আয়োজন করা যাবে, ‘এসব জিনিস আসলে চিঠি দিয়ে লেখালেখি করে তো বোঝানো যায় না; আইসিসির মিটিংয়ে সামনাসামনি কথা হবে। আশা করছি, তখন সবকিছু পরিষ্কার জানা যাবে। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে, কত তাড়াতাড়ি আমরা খেলাটাকে আবার বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে আসতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, আইসিসির আগামী বৈঠকে আরও একটি বিষয় উত্থাপন করবেন তিনি, ‘সন্ত্রাসের হুমকি তো সব দেশেই আছে এবং কখনও কখনও চলবে। তাই বলে ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে? সন্ত্রাসী হুমকি কিংবা ওইসব সংগঠন তো আমাদের খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। দেখতে হবে, কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলে সবগুলো দেশে ক্রিকেটাররা যেতে পারবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারবে।’ অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি যে ‘টেরর অ্যালার্ট ইনডেক্স’ প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশ ২৩ নম্বরে। ভারত আছে ৬ নম্বরে। বাংলাদেশের পরে ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র আছে ২৫-এ। এখানেই প্রশ্ন নাজমুল হাসানের, ‘তাই বলে কি এসব দেশে খেলা হচ্ছে না?’
অস্ট্রেলিয়ান বোর্ড কর্তারা সফরে আসার ব্যাপারে আন্তরিক চেষ্টা করেছেন বলেও জানান নাজমুল হাসান, ‘আমি আইসিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি তাৎক্ষণিক অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন, যেন খেলাটা হয়। আমি অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও চেষ্টা করেছেন। আমার এখনও মনে হয়, এটা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত নয়। এটা অস্ট্রেলিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত। তাদের মিডিয়া রিলিজেও এমন ইঙ্গিতই করা হয়েছে। তারা অনেক চেষ্টা করেছিল; কিন্তু সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পায়নি।’ সন্ত্রাসী হুমকির এ অ্যালার্ট অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এর পরই একটা সূচি ঠিক করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বিসিবি নাজমুল হাসান পাপন ।


Spread the love