আজ ঢাকা আসছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী

118
Spread the love

স্টাপ রিপোর্টার : Gao_Hucheng_2015দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে চীন। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও অংশীদার হতে চায় দেশটি। সে লক্ষ্য নিয়েই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো তরান্বিত করতে আজ বাংলাদেশ সফরে আসছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী গাও হুচেং। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী গাও হুচেংর ঢাকা সফর হবে দুই দিনের। সফরকালে ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের ঢাকা সফরের আগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করতেই ঢাকা আসছেন তিনি। এ সময় তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর সামনে রেখে ঢাকা-বেইজিংয়ের প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এ সফরে মূল আলোচনার বিষয় থাকবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সেসঙ্গে চীনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সেখানে চীনা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। চীনের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ে সমঝোতা স্বাক্ষর করবেন চীনা বাণিজ্যমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চলতি বছর উভয় দেশে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ওই কর্মসূচির আওতায় সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফর বিনিময় হবে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেইজিং সফর করেন। সে সময় চীনা প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। গত মে মাসে ঢাকা সফর করেন চীনা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত চাই শি। সফরকালে চাই শি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানসহ বিভিন্ন পর‍্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন কূটনীতিকরা। তাদের মতে, চীন একটি উদীয়মান শক্তি। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হলে তাতে আমরাই লাভবান হব। তবে শুধু মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হারাবে। কারণ আগে থেকেই বাংলাদেশ চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে থাকে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশিদারিত্ব বা কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপের পক্ষে মত দেন কূটনীতিকরা। সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশিদারিত্বের চুক্তিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সেবা— সব অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে নিশ্চিত বিনিয়োগও পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বাণিজ্যও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ৭৫৪ কোটি ৮ লাখ ডলারের পণ্য। অন্যদিকে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, একই বছরে বাংলাদেশ চীনে রফতানি করে ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭৮ ডলারের পণ্য। এ হিসাবে গত অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৭০০ কোটি ৪৬ লাখ ১ হাজার ৬২২ ডলার। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিয়োগ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগের (এফডিআই স্টক) পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার।


Spread the love