উঠে যাচ্ছে পুলিশের বেতের লাঠি

123
Spread the love

bdবিডিজাহান ডেস্ক : শত বছরের সঙ্গী বেতের লাঠিকে বিদায় জানাচ্ছে পুলিশ। তাদের জন্য আনা হচ্ছে রাবার ও ফাইবারের তৈরি উন্নতমানের বিদেশি লাঠি। এর নাম ‘পুলিশ ব্যাটন’। ইতিমধ্যে চীন থেকে ২০ হাজার লাঠি আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে পুলিশ সদর দফতর। এক মাসের মধ্যে থানা পুলিশ, টহল পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশসহ বিভিন্নস্তরের পুলিশ সদস্যদের হাতে দেখা যাবে এ লাঠি। আর তাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে বেতের লাঠি নামক শত বছরের সঙ্গী।পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন লাঠিগুলোর মধ্যে টেলিস্কোপিক ব্যাটন, নাইলন ব্যাটন, থ্রিটিয়ার্ড ব্যাটন, স্পাইক ব্যাটন, সাইড হ্যান্ডেল ব্যাটন ও এক্সপান্ডেবল ব্যাটন রয়েছে। নতুন লাঠিগুলো আনা হচ্ছে পুলিশের ব্যবহৃত সরঞ্জাম উৎপাদনকারী একটি চায়না কোম্পানির কাছ থেকে।পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ বাহিনীর সর্বাধিক ব্যবহৃত সরঞ্জাম হচ্ছে বেতের লাঠি। প্রতি বছর কয়েক লাখ পিস লাঠি কিনতে হয়। পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবার জন্য বরাদ্দ থাকে বেতের লাঠি। ১৮৬১ সালে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে পুলিশ বাহিনী গঠনের পর থেকে বেতের লাঠির প্রচলন শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের পর পূর্ব পাকিস্তান পুলিশ ও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা বেতের লাঠি ব্যবহার করে আসছেন। আইজিপি, অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্যও একটি করে বেতের লাঠি বরাদ্দ থাকে। এটাকে বলা যায় ট্রেডিশন। পুলিশের ১৫৪ বছরের ইতিহাসে বেতের লাঠি তাদের ঐতিহ্য এবং অন্যতম সরঞ্জাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন বেতের লাঠির স্থান দখল করে নিচ্ছে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরির লাঠি। এ ছাড়া এসব লাঠি টেকসই, ওজনে হালকা ও বহনে সুবিধাজনক। পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানান, দাঙ্গা দমনসহ অপরাধ দমনের কাজে পুলিশ বেতের লাঠি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার থেকেও লাঠিচার্জ দাঙ্গা দমনে অধিক কার্যকর হিসেবে কাজ করে। বেতের লাঠির বদলে নতুন আনা পুলিশ ব্যাটন অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আরও বেশি কার্যকর হবে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ইকুইপমেন্ট) কামরুল আহসান জানান, উন্নত বিশ্বের কোনো দেশে পুলিশ বেতের লাঠি ব্যবহার করে না। তারা রাবার ও ফাইবার অথবা স্টিলের তৈরি উন্নতমানের পুলিশ ব্যাটন ব্যবহার করেন। তাই পুলিশকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সদর দফতর এসব পুলিশ ব্যাটন নিয়ে আসছে। এসব লাঠি অনেক টেকসই এবং সাশ্রয়ী। এগুলোর স্থায়িত্ব বেশি, ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে। এক মাসের মধ্যে পুলিশের হাতে নতুন লাঠি দেখা যাবে।


Spread the love