আজ রাত সোয়া ৮টায় প্রাণভিক্ষার সময় শেষ মুজাহিদ-সাকার ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত

76
Spread the love

bd 1স্টাফ রিপোর্টার : মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এখনো অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। আজ রাত সোয়া ৮টার মধ্যে তারা প্রাণভিক্ষা না চাইলে সরকারের নির্বাহী আদেশে যেকোন সময় তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যে তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার বিষয়ে কারাকর্তৃপক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সমপন্ন করা হয়েছে। ডাকা হয়েছে পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দু’জল্লাদ শাহজাহান ও রাজুকে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাত্তার নামের আরও এক জল্লাদ সাত্তারকে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে গতকালও কারাকর্তৃপক্ষ প্রাণভিক্ষা চাইবে কিনা জানতে চান। কিন্তু তারা সরাসরি উত্তর না দিয়ে তাদের আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাদের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, শীর্ষ দুই মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় দেওয়া উচিত নয়। আইনমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের হিসাব অনুযায়ী রায় কার্যকরে সরকার বড়জোর ২৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে পারে। ফাঁসির আদেশ কার্যকরের সময় গণনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলেও জানান আনিসুল হক। আইনমন্ত্রীর মতে, ‘জেলখানায় আসামিদের রায় পড়ে শোনানোর পর থেকেই সময় গণনা শুরু হয়ে গেছে।’ সে হিসাবে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জেল কর্তৃপক্ষ দুই আসামিকে রায় পড়ে শোনানোর পর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাকি আছে আর ২৬ ঘণ্টা।
রিভিউ রায়ের আদেশ আসামিদের পড়ে শোনানোর পর থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তো আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে পারি না।’
এদিকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জেলখানা সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসি কার্যকরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সর্বশেষ নির্দেশনা এখনো জেলাখানায় পেঁৗছেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন জানিয়েছেন, আসামিরা প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না সে অপেক্ষায় আছেন তারা। মুজাহিদ ও সালাউদ্দিনের রিভিউ আবেদন খারিজের রায় বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর থেকে সেখানে ভিড় করে আছেন সাংবাদিকরা। বুধবার রিভিউ খারিজের মধ্য দিয়ে আইনি সব বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির এই দুই নেতার সামনে এখন কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগই বাকি আছে। তারা আবেদন না করলে বা রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা না পেলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত্যুদ কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ, যার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার জানিয়েছেন।  রাতে রায়ের অনুলিপি কারাগাওে পেঁৗছানোর পর দুই ফাঁসির আসামিকে তা পড়ে শোনানো হয় বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গোলাম হায়দার বলেন, “ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আমরা তাদের পড়ে শুনিয়েছি। ক্ষমা চাইবেন কি না জানতে চেয়েছি। “উনারা বলেছেন, সিদ্ধান্ত পরে জানাবেন। উনাদের সিদ্ধান্ত জানার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। এদিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করার জন্য দুপুর থেকে কারাফটকের সামনে অবস্থান করছেন তার আইনজীবীদের কয়েকজন। তার আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান আলফেসানী সাংবাদিকদের বলেন, প্রাণভিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানানোয় তারা কারা ফটকে এসেছেন। একাধিকবার তারা সালাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও কারা কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি। লিখিত আবেদন নিয়ে গেলেও তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। রিভিউ খারিজের পর আর আসামির সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও তারা কেন এসেছেন জানতে চাইলে হুজ্জাতুল বলেন, “এর আগে কামারুজ্জামানের রিভিউ খারিজের পর প্রাণভিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে তার সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাই আমরা এসেছি। কারাগার সূত্রে জানা যায়, দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে ডাকা দুই জল্লাদ শাজাহান ও রাজু অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। সেইসঙ্গে সুঠাম দেহ ও অধিক মনোবলের কারণে জল্লাদদের তালিকা থেকে তাদের ডেকেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরআগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরে জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন শাজাহান। অপরদিকে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে সময় জল্লাদের ভূমিকায় ছিলেন রাজু। জল্লাদ শাজাহান ১৪৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একজন কয়েদী। তিনি ৩৬ বছর ধরে কারাবাস করছেন। কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তিলাভের জন্যই তিনি জল্লাদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন বলেও সূত্রটি জানায়।


Spread the love