আজ শুরু হতে পারে ডুবন্ত জাহাজের কয়লা উত্তোলন

84
Spread the love

45187_fমাহমুদ হাসান, মংলা : কোন সুপারিশই কাজে আসছে না, এখনও সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে পুরোদমে চলছে তেলের ট্যাংকারসহ বড় বড় নৌযান। সম্প্রতি কয়লাবোঝাই কার্গো ডুবির পর এবারও সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশ করেছিল বনবিভাগ। এদিকে আজ শুক্রবার পশুর নদীতে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজ থেকে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ভাই ভাই স্যালভেজ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মচারী দু’টি ট্রলার যোগে ডুবে যাওয়া জাহাজের কয়লা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) বেলায়েত হোসেন জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরে কার্গো ডুবির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ দুর্ঘটনায় বনের ক্ষতি এড়াতে সংরক্ষিত এলাকায় পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া জলযানের যথাযথ ফিটনেস ও দক্ষ চালক দ্বারা জলযান চালানো, মংলা বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পশুর নদীতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তড়িৎ গতিতে তা উদ্ধার করা এবং ৩০ দিনের মধ্যে ডুবে যাওয়া নৌযানের মালিক নিজ উদ্যোগে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে বন্দর বা নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ সেটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করবে বলে মংলা বন্দর ও বিআইডব্লিউটিএ’র যে আইন রয়েছে তা সংশোধন করে দুর্ঘটনা ঘটা মাত্র উদ্ধার কাজ শুরু করা যায় তার ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়। অথচ তার একটিরও বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ অদ্যাবধি নেয়া হয়নি। তাদের মতে, দুর্ঘটনার পর সব দায় এসে পড়ে বনবিভাগের ঘাড়ে। এবার নয়, এর আগেও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল বন্ধে তারা সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি জাতিসংঘের সুপারিশও মানা হয়নি। ফলে কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনার পর থেকেই বন কর্মকর্তাদের মধ্যে আসন্তোষ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করে এক বন কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে সকল প্রকার নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রনের সুপারিশ করা হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। গেল বছরের ৯ ডিসেম্বর শেলা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবে সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ার পর সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে নৌযান চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময় জাতিসংঘ বন এলাকা দিয়ে নৌযান পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু নৌ-মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে ২৭ দিন পর আবার শুরু হয় সুন্দরবনেরে মধ্য দিয়েই নৌ-চলাচল। সূত্র জানায় আমরাতো নিয়ন্ত্রণ করতে চাই কিন্তু সরকার কি চায়? সুপারিশ তো করেই যাচ্ছি কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়না। অপরদিকে খুলনাস্থ বিভাগীয় বন সংরক্ষক সুনীল কুমার কুন্ড জানান, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ নৌযান চলাচল বিষয় দেখভাল করার কথা। কিন্তু তারা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। এদিকে কার্গো জাহাজ উদ্ধার তৎপরতা এখনও শুরু করতে পারেনি মালিক পক্ষ। ফলে ক্রমেই ডুবন্ত কার্গো জাহাজটি স্রোতের টানে গভীর চ্যানেলে পানির নিচে বালুতে আটকে যাচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জের ভাই ভাই স্যালভেজ নামক একটি প্রতিষ্ঠান গতকাল বিকেলে কার্গোটি উদ্ধারের জন্য মালামাল ও সরঞ্জামাদী নিয়ে এসে পৌঁছেছে। উদ্ধার তৎপরতা আজ শুক্রবার সকাল নাগাদ শুরু হবে বলে তারা জানিয়েছে। তবে উদ্ধারকারী জাহাজ তানজিল-১ এখনও ঘটনাস্থলে এসে পোঁছেনি। প্রথম পর্যায় কয়লা উত্তলন করা হবে, পরে কার্গো জাহাজটি বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দল। এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা গাজী মতিয়ার রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো উদ্ধারকারী দলটি আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবার ডুবে যাওয়া কার্গোর বালি ও পলি মাটি অপসারণের কাজ শুরু করবে। এরপর আগামী রবিবার সকাল থেকে ডুবে যাওয়া কার্গোর কয়লা উত্তেলনের কাজ শুরু করবে। প্রাথমিক টিমের সদস্য মোঃ মাহাবুব হোসেন জানান, আগামী রবিবার কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হলে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য গত ২৭ অক্টোবর রাতে মংলার পশুর নদীর চ্যানেলে ডুবে যায় ৫শ’ ১০ মেঃ টন কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ এমভি জিয়া রাজ। জাহাজ ডুবির পর গঠন করা হয় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এ কমিটি চার দফা সুপারিশসহ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়।

Spread the love