আজ ১৩ ডিসেম্বর বিরলের বহলা ট্রাজেডী দিবস

84
Spread the love

Birol  bdআতিউর রহমান, বিরল দিনাজপুর : আজ ১৩ ডিসেম্বর বিরলের বহলা ট্রাজেডী দিবস। পাক হানাদাররা ৭১’র এ দিনে বহলার গ্রামবাসীদের একত্রিত করে নিমর্মভাবে হত্যা করেছিল। ৩২ টি তরতাজা প্রাণ দিয়েছিল। এদের একত্রে এই গ্রামে গণকবর দেয়া হয়েছিল। ৩ বছর পূর্বে গণকবরটিতে দৃষ্টিনন্দন একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও শহীদদের নাম ফলক হয়নি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছরেও সে দিনের শহীদদের পরিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে আজও কোন স্বীকৃতি পায়নি।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাঙালী সংঘবদ্ধ মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পাক সেনারা পিছু হাঁটতে থাকে। এই দিনে বিরল উপজেলার ভান্ডারা কিংবা রাণীপুকুর ইউপি থেকে পাক হানাদাররা পিছু হেঁটে দিনাজপুর শহরের দিকে আসতে থাকে। সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে কাঞ্চন জংশন এবং রেল ব্রীজ সংলগ্ন বিজোড়া ইউপি’র বহলা গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে পথিমধ্যে নিরীহ গ্রামবাসীর নিকট মুক্তিবাহিনীর সংবাদ জানতে চায় পাক হানাদার বাহিনী। কারণ এ গ্রামের সন্নিকটে সারাঙ্গাই-পলাশবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ছিল, যা আশপাশেই হবে মর্মে অনুমান করেছিল তারা। কিন্তু কোন গ্রামবাসী মুখ খুলেনি। ফলে প্রথমে তাদের গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পাক হানাদারদের নির্দেশ না মানায় গোটা গ্রাম ঘিরে একত্র করে নিয়ে পুরুষদের সারিবদ্ধ ভাবে দাড়াতে বলে পাক সেনারা। ঠিক মাগরিবের আজান পড়ে। গ্রামবাসীরা নামাজ আদায় করতে চাইলে নামাজের অনুমতি না দিয়ে ফায়ারিং শুরু করে মুহুর্তেই ৩২ টি তাজা প্রাণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে দু’জন বাদে সবাইকে একত্রে বহলা গ্রামে গণকবর দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছরেও এরা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন স্বীকৃতি পাননি। তাদের অনেকের পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটালেও সরকারের পক্ষ হতে সহানুভুতি পায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার রহমান আলী জানান, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রেরণ করেছি।
এছাড়াও সেদিন আহত অবস্থায় বেঁচে যান ৫ জন। পরের দিন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ১৪ ডিসেম্বর বিরলসহ দিনাজপুর শত্র“ মুক্ত হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ওই গ্রামের আনিছুর রহমান বাবুল জানান, ২৯ মার্চ/৭১ দিনাজপুরবাসী বিডিআর সেক্টর সদর দপ্তর কুঠিবাড়ীতে হামলা চালিয়ে দখল করে নেয়। সেখানকার রসদ লুট করে আনা হয় বহলায়। তাছাড়া এই বহলা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ঘাটি। তাই খান সেনাদের আক্রোশ ছিল এ গ্রামের উপর। ফলে সেদিন গ্রামের নিরীহ পুরুষদের সারিবদ্ধ ভাবে গুলি চালানো হয়েছিল। গুলিবিদ্ধ হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। পরবর্তীতে তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে নিজ খরচে দু’দফা অপারেশনের মাধ্যমে গুলি শরীর থেকে অপসারণ করেছেন।
আরেকজন বেঁচে যাওয়া ওই গ্রামের মহির উদ্দীন জানান, তার মেরুদন্ডের মধ্যে সে দিনের গুলি এখনো রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে গণকবরের পাশে একটি স্মৃতিস্তম্ভ¢ নির্মাণ করা হলেও ৪৪ বছরেও শহীদদের নাম ফলক হয়নি। প্রতি বছর দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নানা কর্মসূচী পালন করে থাকে।


Spread the love