আত্রাইয়ে আগাম ভুট্টা ও আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক-বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

56
Spread the love

IMG_20151103_193852মোঃ রুহুল আমীন আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে বন্যার পানি নামার সাথে সাথে ৮ ইউনিয়নের চাষিরা আগাম ভুট্টা ও আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেকটি কৃষক ভুট্টা ও আলু চাষ করে অধিক মুনাফা লাভ করতে চায়। গত বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ২৪০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। এবার গত বছরের তুলনায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জমিতে বেশি পরিমান আগাম আলু উৎপাদন হবে বলে মনেকরছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ কিন্তু গত বছর ভালো ফলন হওয়ার পরেও উপজেলার বেশিরভাগ কৃষক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উপজেলার বাইরে রফতানি করতে না পেরে আলুতে লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। এ বছর আবহওয়া ভালো থাকায় এবং আলুর বীজ ভালো পাওয়ায় খুব খুশি মনে আলু চাষে ঝেঁকে পড়েছে উপজেলার কৃষক। উপজেলার ব্রজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, এবার ১২-১৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করবো। হিমাগারে বীজ রেখে বীজের মান ভালো পেয়েছি। আমার বীজের কোন সমস্যা নেই। জমিতে প্রতিদিন ১০-১২ জন কৃষক আলুর জমি তৈরির কাজ করছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভের আশা করছি।
উপজেলার মিরাপুর গ্রামের মোঃ মুমিন প্রাং জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে পড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এবার আশা করছি কোন ধরনের সমস্যা না হলে আলুতে খরচের চেয়ে দ্বিগুন লাভ হবে। আলুর বীজের ক্ষতি সম্পর্কে উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের আজাদ সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি হিমাগারে বীজের জন্য আলু রেখেছিলাম আল্লাহর রহমতে আমার বীজের কোন পচন সমস্যা দেখা দেয়নি এবং আলুর বীজ ভালো অবস্থায় পেয়েছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের অধিক পরিমান বীজ হিমাগারে রাখতে হয় কিন্তু আত্রাই উপজেলায় কোন হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই আত্রাই উপজেলায় ১টি হিমাগার হলে আলু সংরক্ষণে কৃষকরা আলু চাষ করে স্বস্তি পেত। অপরদিকে আলু চাষের জন্য উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে যথেষ্ট পরিমান সহযোগিতা ও পরার্মশ দেওয়ার জন্য প্রতিদিন উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে উপজেলা সহকারী কর্মকর্তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড: এম এ আজিজ  জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেকটি কৃষক আলু চাষ করে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবে। উপজেলার আলু চাষিরা যেভাবে আলু চাষে ঝেঁকে পড়েছে তাতে নওগাঁ জেলার মানুষের আলুর চাহিদা পূরণ করেও ঢাকায় কয়েক হাজার টন আলু রফতানি করতে পারবে।


Spread the love