আত্রাইয়ে আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

92
Spread the love

bd 3আত্রাই নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাইয়ে আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। বিগত বছরের তুলনায় বাজার দাম ও হেক্টর প্রতি উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবারের স্মরণকালের বন্যার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ভালো মানের বীজ ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
তথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে কৃষক আলুর চাষ করেছে এবং আলুর বাম্পার ফলনও হয়েছে। শুরুতেই আলুর ক্ষেতে লেদা পোকার আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে আলু চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরী সহযোগিতার কারণে আলু ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হলেও শুরুতেই রোগ ও পোকার আক্রমনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন আত্রাইয়ের আলু চাষিরা। কিন্তু সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তারা। আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় এখন চাষিদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। উপজেলার মাঠে মাঠে চলছে আলু উত্তোলন ও বস্তা ভর্তির কাজ। নারী ও পুরুষেরা আলু উত্তোলনের কাজ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্যাকেটজাত শেষে এসব আলু আবার চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায়। হেক্টর প্রতি উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ও বাজার মূল্য বেশি হওয়ার ফলে সন্তষ্ট কৃষক ও পাইকাররা। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, আমি এবছর ৫বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। হিমাগারে কিছু বীজ রেখেছিলাম আর বাঁকিটা কিনে জমিতে বপণ করেছি। আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে ও দাম ভাল হওয়ায় বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে পুরোদমে ইরি-বোরো চাষ করতে পারবো। ভোঁপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, আমি চলতি মওসুমে প্রায় সাড়ে ৮বিঘা জমিতে লালপাকরী জাতের আলুর আবাদ করেছি। কোন প্রকার দূর্যোগ ও রোগবালাই না থাকায় এবছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড.এম এ আজিজ জানান, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকা, ভালো বীজ, কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যা ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে আলুর ভালো ফলন অর্জিত হয়েছে। যা আগামীতে আরো বেশি কৃষককে আলু চাষে উৎসাহিত করবে। শুধু তাই নয় আলু চাষের জমিগুলো উর্ব্বরতা বেশি থাকায় কৃষকরা ইরি-বোরো চাষেও এর সুফল পাবে।

Spread the love