আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে সুরমার পানি

69
Spread the love

vdcবিশেষ প্রতিবেদক : আদ্যাতিক রাজধানীকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে সুরমা নদী। নগরের প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এ নদীর অর্ধেক অংশই দূষণে বিপর্যস্ত। নদীতীরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ফেলা ময়লা-আবর্জনায় নদীর একাংশের পানি কালো কুচকুচে বর্ণ ধারণ করেছে। দূষণ রোধে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান চালালেও কাজ হচ্ছে না। আবার যেই কে সেই। এ অবস্থায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালাচ্ছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বন্ধ নেই নদীদূষণের তৎপরতা। দেশের অন্যতম বৃহৎ সুরমা নদীর উৎসমুখ হচ্ছে ভারতের মণিপুর রাজ্যে। সিলেটের জকিগঞ্জের অমলশীদ হয়ে এ নদীটি বিভাগের অন্যান্য এলাকায় প্রবাহিত হয়েছে। সিলেটের ছয়টি উপজেলা ছাড়াও সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলায় নদীটি প্রবাহিত। মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের পূর্ব কাজীর বাজার এলাকার গোয়ালি ছড়া (প্রাকৃতিক খাল) দিয়ে কুচকুচে কালো পানি গিয়ে সুরমা নদীতে মিশছে। সেই সঙ্গে ছড়ায় আশপাশের বাসিন্দা ও নগরবাসীর ফেলা ক্লিনিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস বর্জ্য এবং প্লাস্টিকজাত সামগ্রীও পানির তোড়ে নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে। স্থানীয় অন্তত পাঁচজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরের কালীঘাট, কাজীর বাজার, শেখঘাট ও কদমতলী অংশে পাইকারি সবজি, মাছ, ফলসহ রকমারি পণ্যের বাজার অবস্থিত। সুরমার তীরবর্তী ঝালোপাড়া, তোপখানা, চাঁদনীঘাট, মাছিমপুরসহ অন্তত ১১টি এলাকার অংশে আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে। এসব আবর্জনার মধ্যে রয়েছে কলার কাঁদি, পচে যাওয়া মাছ ও সবজি, নারকেল ও সুপারির বাকল, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, ই-বর্জ্য, উচ্ছিষ্ট খাবার, বোতল ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য এবং পরিত্যক্ত সামগ্রী। এসব আবর্জনা গড়িয়ে নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে। গোয়ালি ছড়াটি পূর্ব কাজীর বাজার এলাকায় অবস্থিত। ছড়ার তীরে অন্তত ৩০টি পানের আড়ত, ভাঙারি দোকান ও স মিল অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় প্রতিটিই ছড়ায় আবর্জনা ফেলছে। তাতে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে ছড়ার পানি। আবার সেই পানিই গিয়ে মিশছে সুরমা নদীতে। তবে এখানকার মেসার্স আনিসুর রহমান পান আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. আনিসুর রহমান দাবি করেন, তিনি ময়লা জমা করে অন্য স্থানে ফেলেন, ছড়ায় ফেলেন না। কাজীর বাজার এলাকায় অবস্থিত মাছের বাজারটি বিভাগের সবচেয়ে বড় মাছের বাজার। এই বাজারে অন্তত ৮০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। নদীর এই অংশেই দূষণ সবচেয়ে বেশি। কাজীর বাজার লাগায়ো নদীর পানিতে মাছের টুকরি ও কর্কশিট ভাসছে। তীর থেকে পচা-গলা মাছের উচ্ছিষ্ট গিয়ে নদীতে মিশছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে অভিযান চালাচ্ছি। কেউ যাতে ছড়া কিংবা নদীতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে, সে জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নিই। এরপরও যারা বা যেসব প্রতিষ্ঠান নদী দূষণ করে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


Spread the love