আশার আশাই রয়ে গেল তবুও পেল না ভালোবাসা

89
Spread the love

bd0ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : “আমার প্রাণের বিনিয়মেও তোমাকে ভালোবাসি ওহাব, কিন্তু তুমিও বুঝলে না আমার পরিবারও বুঝলো না, তাই আমি তোমাদের মাঝ থেকে অনেক দূরেই চলে গেলাম। যেখানে কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না। ওহাব তোমাকে অনেক ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি,,,,,,,,,,,,,? এই কয়েকটি কথা একটি চিরকুটে লেখেই না ফেরার দেশে চলে গেল আশা নামে মেয়েটি। গতকাল (বুধবার) রাতে ঠাকুরগাঁও জেলার হাজীপাড়া এলাকা নিজ বাসা থেকে ওই আশা নামে মেয়েটির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আশা ওই এলাকার বাদশা মিয়ার মেয়ে। এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্নাস ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আশা। তার সাথে একই শহরের ওহাব নামে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের বিষয়টি পারিবারিক ভাবে জানাজানি হয়ে গেলে আশার উপর চলতো প্রায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এর ফলে এক সময় আশা ওহাবের সাথে অজানা পথে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে। বাড়ি থেকে সে ওহাবের সাথে বেড়িয়ে পড়লেও পারিবারিক কারণে আবার বাসায় ফেরত হতে হয়েছে। এর পর থেকে আশার স্বাধীনতা হরন করে পরিবারের লোকজন। তাকে কলেজেও যেতে দেওয়া হতো না। আশা ওহাবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। অবশেষে আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির লোকজন না থাকায় গলায় ওড়না পেচিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায়। বাড়ির লোকজন ঘরের জানালা দিয়ে আশার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। আশার মা কুলসুম জানান, আশা আমাদের খুব আদরের মেয়ে ছিল। আমরা কখনও চায়নি সে কোন ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়াক। সে পড়ালেখায় খুব ভাল ছিল। তার এই মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছি না। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নুরু জানান, প্রেম ঘটিত কারণে আশার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়না তদন্ত শেষে বুঝা যাবে আশার মৃত্যুর কারণ। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


Spread the love