আ. লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

86
Spread the love

vdcrনিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে দলটি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নামক ভূ-খণ্ডের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৪৯ সালের আজকের এই দিনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যদিও প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠনের নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তীতে পরিবেশ বিবেচনায় ‘‘আওয়ামী লীগ” নামে সংগঠনটি কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৫২ সালের ‘‘মায়ের ভাষা বাংলা” প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট পাকিস্তানের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছিল। ’৬২ সালে গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬ সালের ৬-দফার আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ’৭০-এর নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পরও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানিদের এদেশ থেকে তাড়িয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে উপহার দেয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা উত্তর সাড়ে তিন বছর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই কুচক্রী মহল, স্বাধীনতা বিরোধীচক্র ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। জেলখানায় জাতীয় চারনেতাকে হত্যার মাধ্যমে এই সংগঠনটিকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নবউদ্যামে সংগঠিত হন। তারই ধারাবাহিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সালে পুনরায় সরকার গঠন করে ‘রূপকল্প ২০২১’-এর আলোকে মধ্যম আয়ের সুখী-সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখান এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর আলোকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি:
বৃহস্পতিবার সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, পায়রা উন্মুক্ত ও বেলুন ওড়ানো। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথে ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এবং বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ঈদ শুভেচ্ছার পাশাপাশি বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন টাঙানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সব বিলবোর্ডে ৭ দফা, ৭ই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হবে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ যেসব উন্নয়ন রয়েছে তা-ও বিলবোর্ডে স্থান পাবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।


Spread the love