ঈদকে টার্গেট করে সরগরম গোবিন্দগঞ্জের কোচরশহর তাঁতশিল্প

59
Spread the love

1ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : দীর্ঘ সময় মন্দা কাটিয়ে আসন্ন ঈদকে টার্গেট করে সরগরম হয়ে উঠেছে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচার শহরের এতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। উৎপাদন বাড়াতে তাঁতপল্লীগুলোতে শ্রমিকরা দিন-রাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সর্বত্র কাপড় বুনানোর ধুম। শুধুমাত্র কোচারশহর তাঁতশিল্প এলাকা থেকেই সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার পিস কাপড় দেশে ও দেশের বাইরে রফতানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। শাড়ি উৎপাদন কাজে শুধু পুরুষরাই নয় সংসারে বাড়তি আয় যোগ করতে কাজ করে যাচ্ছে পরিবারের মহিলারাও। কেউ সুতা ছিটায় উঠানোর কাজে, কেউ সুতা পাড়ি করার আবার কেউ সুতা নাটাইয়ে উঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সব মিলিয়ে তাঁতের খটখটি শব্দে মুখরিত এখন তাঁতশিল্পের এলাকাগুলো। তাঁতের শাড়ি খ্যাত২কোচারশহরসহ বিভিন্ন তাঁতশিল্প এলাকা পরিদর্শন কালে জানা গেছে, এবারের তাঁতের শাড়ির চাহিদা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ইউপি নির্বাচন ও লোডশেডিংয়ের কারণে শ্রমিকরা চাহিদা মতো উৎপাদন করতে না পারায় হাটে শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে। জানতে চাইলে শাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, উৎপাদন কম হওয়ায় আমরা সারাদেশে বিভিন্ন কোয়ালিটির শাড়ির চাহিদা মেটাতে পারছি না। তবে এবার শাড়ি বিক্রি ভালোই চলছে। তবে সারা বছর মন্দা থাকার কারণে আমাদের যে লোকসান হয়েছে তা পুষিয়ে নিতেই আমরা মরিয়া হয়ে পড়েছি। সামনের দিনগুলোতে আশা করি শাড়ি বিক্রি আরো বেড়ে যাবে। শাড়ি ব্যবসায়ী বাবলু মিয়া জানান, সারা বছর মন্দা থাকলেও এখন বেশ ভালোই ক্রেতাদের দেখা পাচ্ছি। প্রত্যেকটি শাড়ির দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি করেছি। যার ফলে শ্রমিকরাও লাভবান হতে পারছে। তবে সুতা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম কম হলে আমরা আরও লাভবান হতে পারতাম। তাঁত মালিক আবুল কালাম জানান, বৈচিত্র্যে অনন্য কোচারশহরের তাঁতের শাড়ির তুলনা নেই। যা দেখলেই চোখ জুডিয়ে যায়। দক্ষ কারিগর দিয়ে নিখুঁতভাবে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর কোচারশহরে তাঁতের শাড়ি। কিন্তু অবৈধভাবে আমাদের মার্কেটগুলোতে ভারতীয় নিম্নমানের সিল্কের শাড়ি প্রবেশ করায় টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি চরমভাবে মার খাচ্ছে। মার্কেটগুলোতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় শাড়ি বিক্রি বন্ধ করতে পারলে কোচারশহর তাঁতের শাড়ি আরোও ভালো চলবে বলে তিনি জানিয়েছেন। শ্রমিকরা জনিয়েছেন, তারা মালিকদের কথা মতো দিনরাত গতর খাটিয়ে যাচ্ছেন শাড়ি উৎপাদনে। মুজুরিও বেশ ভালোই পাচ্ছেন। তবে প্রত্যেক ঈদের পর মন্দাবস্থা থাকায় তাদের পেশা হারানোর শংকায় থাকতে হয়। এদিকে জেলা শহরের শপিং সেন্টারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, তাঁতশিল্প এলাকাগুলো তাদের বাহারি ডিজাইনের উৎপাদিত কাপড় মার্কেটগুলোতে সরবরাহ করছে। আর তাই বাহারি ডিজাইনের নিজেদের পছন্দের কাপড়টি কিনতে শপিং সেন্টারগুলোতে ক্রেতাদের কমতি নেই। এবারের ঈদের শাড়ি ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণ হচ্ছে বিখ্যাত জামদানি, সপশিল্ক, দোতারি, রেশম, তশর, হাইব্রিট, স্টাইপ, কুচি, ফোরফ্লাই, কাতান, বালুচুরি ইত্যাদি।


Spread the love