ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত পলাশবাড়ীর বুটিক শ্রমিকরা

86
Spread the love

2ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে পলাশবাড়ী উপজেলার জামালপুর গ্রামের আমিনুলের বাসায় ও চকপাড়ার গ্রামে লাইলীর বাসায় নকশী কাঁথা, বেড কভার, থ্রিপির, ফতোয়া, হ্যান্ডব্যাগ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বুটিকশিল্পের নারী শ্রমিকরা। এ কাজ করে নারী শ্রমিকরা স্বাবলম্বী হচ্ছে বলে জানায়। পলাশবাড়ী উপজেলার প্রফেসার পাড়া ও জামালপুর গ্রামে বুটিক কারখানায় কাজ করতে আসা আশা খাতুন বলেন, একজন বুটিক সূচশিল্পী সপ্তাহে পারিশ্রমিক পান প্রায় দেড় হাজার টাকা। ফলে একজন শিল্পী মাসে আয় করতে পারেন প্রায় ছয় হাজার টাকা। তারা সংসারে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই কাজ করে যে টাকা পাওয়া যায়, সেটা বাড়তি আয়। ফলে এই গ্রামের এখন অনেককেই সুখের আলো দেখছে বলে জানা গেছে। চকপাড়ার লাবনী খাতুন (২৭) নামের এক সূচি শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, প্রায় ৫ বছর আগে একজন দিনমুজুর নজরুল ইসলাম বিয়ে হয়েছে। আট মাসের সন্তান রেখে ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা নামক স্থানে খেজুর গাছ লগানোর কাজে যায়। সেখানে থেকে তাকে বিজিএফ ধরে নিয়ে যায়। তারপর তাকে ২৬ মাসের জেল দিয়েছেন ভারত আদালত। লতা খাতুন নিরুপায় হয়ে পড়ে। অবশেষেসংসার চালানোর তাগিদে বিএরডি অফিসে বুটিক কুটিরশিল্পে কাজ নেয়। বর্তমানে সে কাজ করছে আর যতটুকু আয় হচ্ছে তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে। শ্রমিক ছালমা বেগম বলেন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে অতি কষ্টে সংসার চলছিল তাই বুটিকের কাজ শিখে তাকে আর সংসার নিয়ে ভাবতে হয় না। ছালমার মতো অনেকে বুটিকের কাজ করে ভালোভাবে দিন কাটাতে পারছে। ঢাকার আড়ংসহ বিভিন্ন মার্কেটে এসব বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যন্ত পল্লীতে এ ধরনের ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ওই শিল্পের পরিধি বাড়াতে তিনি বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আশার আলো মহিলা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক ফাতেমা খাতুন লতা বলেন, এলাকার গরিব মানুষের কর্মসংস্থানের কথা ভেবে এ কাজ শুরু করি। এখানকার হতদরিদ্র নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এপলিক শাড়ি, নকশী কাঁথা, বেড় কভার, থ্রিপিস, লেডিস ফতোয়া, সর্ট কামিজ, কুশন কভার, ওয়ালমেট, রিং ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, পার্টস-১, মোবাইল ব্যাগ, বটুয়া ব্যাগ, টিফিন ব্যাগ, টুনি ব্যাগ-১, কলেজ ব্যাগ তৈরির কাজ শুরু করি। গৃহকর্মের পাশাপাশি নারীরা এ কাজে শ্রম দিয়ে অতিরিক্ত উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্ল হোসেন বলেন, এলাকায় বুটিক তৈরির কারখানা গড়ে ওঠায় অনেক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই শিল্পকে প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রত্যন্ত গ্রামেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এই ধরনের ক্ষুদ্রশিল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


Spread the love