ঈদের ছুটিতে ঠাকুরগাঁওয়ে দেখে আসুন প্রত্ননিদর্শন

161
Spread the love

unnamed (2)মোঃতোফায়েল ইসলাম ঠাকুরগাঁও: আমাদের কর্মচঞ্চল জীবনে ‘ছুটি’ শব্দটি  নিয়ে আসে অসাধারন একটি খুশির বার্তা। এই ছুটিকে আরো
উপভোগ্য করে তুলতে পারে আনন্দময় ভ্রমণ। একটি জেলা, নাম তার ঠাকুরগাঁও বাংলাদেশের একেবারে উত্তর কোণে, মানচিত্রের শীর্ষের দিকে অবস্থান করছে । এই জেলাতেও রয়েছে অমূল্য সব প্রত্ননিদর্শন। ঈদের ছুটিকে যথাযথ কাজে লাগানো যেতে পারে এসব প্রত্নস্থান ভ্রমণের
মাধ্যমে যা আমাদের ঈদের খুশিকে বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। ঠাকুরগাঁও জেলার ৫টি উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পুরাকীর্তি। তার মধ্যে হরিপুর রাজবাড়ি, রাজা টঙ্কনাথের বাড়ি, গোরক্ষনাথ মন্দির, দুই বিঘা আমগাছ, জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদসহ আরো অনেক মন্দির, মসজিদ, মঠ, রাজবাড়ির সমৃদ্ধ নির্মাণশৈলী ও অপূর্ব কারুকাজ সহজেই মুগ্ধ করে দর্শকদের। যেভাবে যাবেন , ঠাকুরগাঁও সদর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে
অবস্থিত রাণীশংকৈল উপজেলা। সদর থেকে৫০-৬০টাকা বাস ভাড়ায় চলে যাওয়া যায় রাণীশংকৈল উপজেলায়। সেখান থেকে মাত্র ১৫- 25 টাকা রিকশাভাড়ায় পৌঁছানো যায় এক কিলোমিটার দূরবর্তী রাজা টঙ্কনাথের রাজবাড়িতে। এটি নির্মাণ করেন ১৯৯৫ সালে রাজা টঙ্কনাথ। এই জনপদ ১১০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মালদুয়া পরগণার অন্তর্গত ছিল বলে আগে এই রাজবাড়ি মালদুয়ার রাজবাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল। ব্রিটিশ সরকারের আস্থা লাভ করার জন্য রাজা বুদ্ধিনাথের ছেলে টঙ্কনাথ এখানে ‘মালদুয়ার কোট’ স্থাপন করেছিলেন। পরে রাজা টঙ্কনাথের স্ত্রী রাণী শংকরী দেবীর নামে এই এলাকার নাম হয় রাণীশংকৈল। রাজবাড়িতে ঢোকার প্রধান সড়কটির ওপর রয়েছে একটি সুন্দর ব্রিজ। পাশ দিয়ে কুল কুল ধারায় বয়ে চলেছে একটি
ছোট্ট শীর্ণ নদী ‘কুলিখ’। নদীর পাশদিয়ে হাঁটা পথে একটু এগোলেই চোখে পড়ে রাজবাড়ির প্রধান ভবন। এককালে জাকজমকপূর্ণ কারুকাজে খচিত এই
প্রাচীন রাজভবনটিতে এখনো অনেক কারুকাজ করা দেওয়াল অবশিষ্ট আছে। রাজবাড়িতে ঢোকার পথে দেখা যায় কারুকাজ করা বিশাল সিংহ দরজা। একসময় মার্বেল পাথরে আচ্ছাদিত ছিল এর মেঝে। ভবনের ভেতরের প্রাচীরে দেখা যায় মনোমুগ্ধকর কারুকাজ। অপূর্ব লাল ইটের এই রাজবাড়ি এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দণ্ডায়মান। মূল রাজবাড়ির উত্তর পূর্বকোণে রয়েছে কাছারি বাড়ি, পূর্ব দিকে দুটি পুকুর ও প্রায় ২০০ মিটার দূরে রামচন্দ্র জয়কালী মন্দির। চারপাশে অসংখ্য গাছপালা রাজবাড়িকে দান করেছে বাড়তি সৌন্দর্য। রাজা টঙ্কনাথকে নিয়ে অনেক লোককথা এখানে প্রচলিত। কথিত আছে রাজা টঙ্কনাথ ব্রিটিশ রাজ কর্মচারীকে টাকা পুড়িয়ে চা বানিয়ে খাইয়েছিলেন বলে ব্রিটিশরা তাকে ‘চৌধুরী’ উপাধি প্রদান করে। এই জমিদার বাড়িটিতে একসময় হাতিশালা ছিল। সবকিছু মিলিয়ে অপূর্ব এই প্রত্ননিদর্শন ভ্রমণের একটি অসাধারণ স্থান হিসেবে পরিচিত।


Spread the love