উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি

105
Spread the love

news pic-আলিম উদ্দিন আলিম, কানাইঘাট (সিলেট) : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলা। গতকাল মঙ্গলবার থেকে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি রয়েছেন। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গতকাল বিকাল ৫টায় কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানী বিপদ সীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে সকাল থেকেই কানাইঘাট উপজেলা সদরসহ কানাইঘাট বাজার বন্যার পানীতে তলিয়ে যায়। এতে উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির আউশ ইরি ও সব্জি চাষ এর ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারনে গত ৩/৪ দিন থেকে কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারীসহ সকল প্রকার কার্যক্রম বন্দ থাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এতে শ্রমিক ও অসহায় মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছে বিপাকে। এছাড়া ভারত থেকে নেমে আসা লোভা নদী‘র ঢলে উপজেলার সর্বত্র বন্যা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা ও বোনা আমন, বীজতলা, এবং পাকা আউশ ও ইরি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পাথর ব্যবসায়ী ও পাথর বহনকারী যানবাহনের মালিক গনের ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বাড়ীর পুকুর এবং ফিশারী গুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক কোটি টাকার মাছ বাসিয়ে গেছে। গতকাল লোভা ও কুশিয়ারা নদী দিয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার দিঘীরপার পুর্ব, সাতবাক, লক্ষিপ্রসাদ পুর্ব ও পশ্চিম, কানাইঘাট সদর, বড়চতুল, দক্ষিন বানীগ্রাম, ঝিংগাবাড়ী ও রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন এবং কানাইঘাট পৌরসভাসহ উপজেলার সর্বত্র বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধি রয়েছেন।
এছাড়া গতকাল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের চতুরদিকে পানি থাকায় এবং অবিরাম বৃষ্টির কারনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে যেতে পারেনি। অফিস পাড়ায় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও সাধারন মানুষ এর উপস্থিতি খুবই কম ছিল। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গ্রামের চতুর পাশে পানি রয়েছে। তাই বাড়ী থেকে লোকজন বাহির হতে পারেনি। লোভাছড়া পাথর শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, ঢলের পানিতে লোভা কোয়ারী তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ৪নং সাতবাক ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুল মন্নান জানান, বন্যায় সাতবাক ইউনিয়নের অনেক ক্ষতি হয়েছে, লোকজন অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারনে চলাচল করতে পারছেনা। সড়কের বাজারের ব্যবসায়ী কয়েছ আহমদ জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার মানুষ পানি বন্দি রয়েছেন।
এরির্পোট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে আরও পানি বৃদ্ধি হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে ধারনা করছেন অনেকেই। কানাইঘাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ তাজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে কানাইঘাট বাজার পানীতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারের ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২নং লক্ষিপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি সদস্য দুদুমিয়া জানান, ২নং লক্ষিপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ পানি বন্ধি রয়েছে, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া তাদের বাড়ীর সামনে সুরমা নদীর ডাইকে ফাটল দেখা দিয়েছে। সুরমা ডাইকে ফাটল দেখা দেওয়ায় এ ইউনিয়নের জনসাধারণ মারাক্তক আতংকের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, ফাটলের বিষয়টি আমরা পানী উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি।
কানাইঘাট সম্মিলিত উলামা মাসায়েখ পরিষদের সহসভাপতি মাওলানা এনামুল হক বলেন, কানাইঘাটের লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। তিনি বন্যার্তদের অবিলম্বে ত্রান সামগ্রী প্রদানের জন্য এলাকার বিত্তবান সহ সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোঃ জাকারিয়া জানান, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে অধ্যাবধি পর্যন্ত সরকারী ভাবে কোন ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সরকারী হিসাব মতে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে প্রায় ১২শত হেক্টর ফসলী জমি। এছাড়া সার্বক্ষনিক বন্যার খোজ খবর নিচ্ছি এবং বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের খবর নিতে সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের সাতে যোগাযোগ রাখছি। তাছাড়া বন্যা পরিস্থিতির খবর জেলা প্রশাসক সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি।


Spread the love