এই ৬টি পরীক্ষা গর্ভধারণের পূর্বে অবশ্যই করিয়ে নিন

101
Spread the love

7.একটি নারীর জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অনুভূতি হল মা হওয়া। মার হওয়ার অনুভূতির সাথে আর কোন অনুভূতির তুলনা হয় না। কিন্তু এই মা হওয়ার সময়টুকুতে কিছু মানুষকে শারীরিক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। এই সমস্যাগুলো সাধারণত জীবনযাপনের ধরন, জিনগত কারণ, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক টেনশন ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। গর্ভধারণের সময় এইসব জটিলতা এড়াতে গর্ভধারণের আগে কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

১। থাইরয়েডের পরীক্ষা

থাইরয়েডের পরীক্ষাকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। অথচ এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণের কারণে হতে পারে গর্ভপাতের মত মারাত্নক ঘটনাও। অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণকে বলা হয় ‘হাইপার থাইরয়েডিজম’। এর কারণে সন্তান আগাম জন্ম হতে পারে। যদি কম হাইপোথাইরয়েডিজম হয়, তার কারণে নবজাতকের মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে থাইরয়েডের টেস্ট করা অনেক বেশি প্রয়োজন।

২। রক্ত পরীক্ষা

গর্ভধারণের আগে প্রতিটি নারীকে কিছু রক্তের পরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণত ছয় ধরণের রক্ত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট), সিফিলিস, এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি, রুবিলা ভাইরাস, ব্লাড গ্লুকোজ  পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি, রুবিলা ভাইরাস, ব্লাড গ্লুকোজ  অব্যশই করতে হবে।

৩। প্রস্রাবের পরীক্ষা

প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে শর্করার পরিমাণ, প্রোটিনের পরিমাণ, কোন প্রকার ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন আছে কিনা তা  জানা যায়। যদি রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, তবে গর্ভধারণের আগে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিতে হবে।

৪। স্মিয়ার (Smear) টেস্ট

জরায়ুমুখ, পেলভিক, যোনির এলাকা পরীক্ষা করাকে স্মিয়ার পরীক্ষা বলা হয়। গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্যগত সমস্যা এড়ানোর জন্য এই পরীক্ষাগুলো করানো হয়ে থাকে। আপনার যোনী বা জরায়ু এলাকায় কোন ইনফেকশন আছে কিনা তা জানা যায় এই স্মিয়ার পরীক্ষার মাধ্যমে।

৫। সিমেন এনালাইসিস (শুক্রাণু বিশ্লেষণ)

এই পরীক্ষাটি ছেলেদের করানো হয়ে থাকে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শুক্রাণু গণনা, শুক্রাণুর প্রকৃতি, অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। যেসকল ছেলে ধূমপান, মদ্যপান করে থাকে এবং যাদের কোন জিনগত সমস্যা আছে তাদের এই পরীক্ষা অব্যশই করা উচিত।

৬। এক্স-রে ,আলট্রাসনোগ্রাম করা

গর্ভধারণের আগে বুকের এক্স-রে, পেটের আলট্রাসনোগ্রাম করে নেওয়া ভাল। অনেক সময় বুকের এক্স-রে বা পেটের আলট্রাসনোগ্রামে এমন কোন সমস্যা ধরা পড়ে যা আগে আপনি জানতেন না। এছাড়া ব্লাড প্রেসারটা পরীক্ষা করে নিতে হবে। অনেক সময় গর্ভকালীন সময়ে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, যা নিয়মিত চেকাআপ আর ঔষধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে।

পরামর্শদাতা
জান্নাতুত তাসনিম
এমবিবিএস
শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ


Spread the love