একজন সফল কবুতর খামারির গল্প উন্নত জাতের কবুতর পালনে পথ দেখাচ্ছেন বগুড়ার গোকুলের আল-মামুন সনি

162
Spread the love

Untitled-1.psd.psdএস আই সুমন.মহাস্থান (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ হাঁস- মুরগী, ছাগল কিংবা গবাদি পশুর খামার প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপক সাফল্য অর্জনের কথা আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু আমাদের দেশে কবুতরের খামার প্রতিষ্ঠা করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন খূব একটা শোনা না গেলেও নিরবে নিভৃতে এ সাফল্য অর্জন করে চলেছে বগুড়ার যুবক সনি। প্রচারবিমূখ হবার কারনে তার এ সাফল্যের খবর আমরা অনেকেই জানতাম না। কয়েকদিন আগে হঠাৎ এক বিকালে তার খামারে হাজির হয়ে বিভিন্ন উন্নত জাতের কবুতর দেখে শুধূ অভিভূতই হলাম না, সাথে আশ্চর্যও লাগলো সনির কবুতরের খামার প্রতিষ্ঠা দেখে। বগুড়া সদরের গোকুল উত্তর পাড়া হযরত বোরহান উদ্দিনের মাজারের পাশে অবস্থিত খামারে গিয়ে দেখা যায়, আলাদা আলাদা খাচাঁয় পালনরত বিভিন্ন উন্নত জাতের কবুতরগুলোকে খাবার সরবরাহে ব্যস্ত রয়েছে খামারি আবদুল্লাহ আল-মামুন সনি। তার কাজের ফাঁকে ফাঁকে উন্নত জাতের এ কবুতর পালনের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। নিুে সেগুলি ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো।

খামার প্রতিষ্ঠা ঃ ২০০৯ সালে মাত্র ৩ জোড়া কবুতর দিয়ে সনি কবুতর পালনের এ যাত্রা শুরু করে। সনি,আমাদের প্রতিনিধি এস আই সুমন কে জানায় ইন্টারনেটে বিদেশী বিভিন্ন উন্নত জাতের কবুতরের ছবি দেখে কবুতর পালনে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তবে প্রথমে শুধুমাত্র শখের বশেই কবুতর পালন শুরু বলে সনি জানায়।

খামারে পালনরত বিভিন্ন জাত ঃ খামারে গিয়ে দেখা যায়, ম্যাগপাই পোটার, হলূদ কিং, লাল কিং, ব্লূ কিং, লাল, নীল ও সাদা স্ট্রেচার, বুখাড়া, সারটিং, বিভিন্ন রংয়ের মুক্ষী, নান, লাহোর সিরাজী, সুয়া চন্দ্রন, ডাবু, বেল্ট, লাল ও সিলভারসহ বিভিন্ন রংয়ের লক্ষাসহ প্রায় ২৫-৩০ রকমের উন্নত জাতের কবুতর খামারে খাঁচায় পালিত হচ্ছে। এছাড়াও যেকোন সময় প্রাপ্তি সাপেক্ষে উন্নত জাতের কবুতর সংগ্রহ করা হয়ে থাকে বলে খামার মালিক সনি জানান।

যেখান থেকে সংগ্রহ ঃ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সনির মতই অনেক খামারী রয়েছে যেগুলি থেকে পছন্দ অনুযায়ী এ সব উন্নত জাতের কবুতর সংগ্রহ করা হয় বলে খামার মালিক সনি জানিয়েছেন।

পরিচর্যা ঃ এ সব উন্নত জাতের কবুতর পালনে অধিক পরিশ্রম করা না লাগলেও সঠিক পরিচর্যা জরুরী বলে খামার মালিক জানান। তিনি আরো জনান, কবুতর পালনে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, বর্তমানে কোন কবুতরের কি সমস্যা তা তিনি সহজেই বুঝতে পারেন এবং সে অনুযায়ী নিজেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

দাম ঃ খামার মালিক সনি জানান, তার খামারে বিভিন্ন দামের কবুতর রয়েছে। তবে বর্তমানে তার খামারে হলুদ কিং জাতের কবুতরের প্রতি জোড়া সর্বোচ্চ ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো জানান তার খামারে পালনরত কবুতরের সর্বনিু দাম ২ হাজার টাকা।

ক্রেতা ঃ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত খামারিগণ সনির এ কবুতরের মূল ক্রেতা। এছাড়াও অনেকে শখের বশে এসব উন্নত জাতের কবুতর ক্রয় করে থাকে বলে জানা যায়।

প্রতি মাসে উৎপাদন ঃ খামার মালিক সনি জানান, তার খামারে বর্তমানে ৫-৬ লক্ষ টাকা মুল্যের কবুতর সংগ্রহে রয়েছে। যেগুলি থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩০- ৩৫টি বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে বলে জানা যায়।

প্রতি মাসে বিক্রয় ঃ খামার মালিক সনি জানান, প্রতি মাসে এ সব উন্নত জাতের কবুতরের জন্য ক্রেতাগণ অগ্রিম বুকিং দেন। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কখনও কখনও চাহিদা অনুযায়ী কবুতর সরবরাহ দেয়া সম্ভব হয় না। তারপরও বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকার কবুতর বিক্রি হয়ে থাকে। দিন দিন এ চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভবিষৎ পরিকল্পনা ঃ যেহেতু এ সব উন্নত জাতের কবুতরের চাহিদা প্রচুর, তাছাড়া আয়ও মোটামুটি ভাল, সে হিসেবে এটাকে পেশা হিসেবে নিতেই বর্তমানে বেশি আগ্রহী খামার মালিক সনি। তাই তিনি এ পর্যন্তথেমে থাকতে চান না। তিনি হাতে গড়া খামারটির পরিধির বি¯তৃতি ঘটাতে চান। তিনি জানান, আগামি দিনে আরো নতুন নতুন জাতের কবুতর সংগ্রহের মাধ্যমে তার খামারটি ভরে তুলবেন। যে খামারটি দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ জড়ো হবে।

আমাদের মন্তব্য ঃ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ব্যতিক্রমী কিছু উদ্যোগই মানুষকে এ শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান দিয়েছে। ইচ্ছে করলে মানুষ অনেক কিছু করতে পারে এবং করে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, আত্মপ্রত্যয়ী সনি উন্নত জাতের কবুতর খামার প্রতিষ্ঠা করে যে সফলতা দেখিয়েছে, সে সফলতার পরিধি আরো ব্যপক থেকে ব্যাপক হবে। তার স্বপ্নের রূপ বাস্তবায়নে সে সক্ষম হবে।


Spread the love