“একান্নবতী সংসার হলো নিস্তরঙ্গ জলের মতো”

315
Spread the love

a bokপৃথিবীর প্রত্যেক মা বাবা ভালো হয় ঘরে বউ আনার পুর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত। বিশ্বাস হচ্ছে না???? তাহলে বিয়ে করে ঘরে বউ নিয়ে আসেন, এবং এর কিছু দিনের মধ্যে প্রমান পেয়ে যাবেন। এমনকি শুধু মা বাবা নয় পরিবারের অনেকের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে কেন ছেলে বিয়ে করার পরে মা বাবার সাথে সম্পর্কের দুরত্ব বেড়ে যায়? তাহলে কেন ভাই বিয়ে করার পর ভাইকে সহ্য করতে পারে না? তাহলে কেন ভাই বিয়ে করার পর বোনেরা বাবার বাড়ির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়? এসবের পিছনে কাকে দোষারুপ করবো? তাহলে বউ কি সব দোষের মূল? বিয়ে করার আগ পর্যন্ত একান্নবতী পরিবারে ১৫/২০ জন সদস্য থাকলে ও কোন অশৃঙ্খলতা থাকে না, একে অন্যের প্রতি বিনম্র আন্তরিকতা থাকে। সকালের নাস্তা কম হলে ও সবাই ভাগ করে অতি উৎসাহে নাস্তা করে। দূপুরের খাবার টেবিলে একজন সদস্য অনুপস্থিত থাকলে তাহার জন্য প্রয়োজনে আসর পর্যন্ত অপেক্ষা করে সবাই বসে থাকে। রাতের খাবার টেবিলে সবার উপস্থিতিতে জমবে সারা দিনের কোথায় কে করেছে তা নিয়ে হাসির আসর। সকালে ছেলে যখন বাহিরে বের হবে মা তখন মাথায় হাত বুলিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করে ছেলে যেন সুস্থ ভাবে ঘরে ফিরে আসে, বাবা চেচিয়ে বলবে খেয়াল করে বাইক চালাবি। কিন্তু একজন বিবাহিত ছেলের ক্ষেত্রে ঘটবে ঠিক বিপরীত কাহিনী। ভাই ভাই সম্পর্কটা খুব মধুর থাকে ভাইরা ঘরে বউ আনার পুর্ব পর্যন্ত। যদি একটা পিঠা খাবার জন্য সামনে দেয়া হয় তাহলে জিজ্ঞেস করবে ভাইয়া কি পিঠা খেয়েছে? যদি আর পিঠা না থাকে তাহলে এক পিঠা তিন ভাই ভাগ করে খাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিয়ের পরে উপলব্ধি করতে হয় ঠিক বিপরীত দৃশ্য। ভাই বোনের সম্পর্কটা খুব সুন্দর থাকে ভাই বিয়ে করার পুর্ব পর্যন্ত। বোন কি খেলো, কোথায় থাকলো, বাগনা বাগনি কি খেয়েছে সব তদারকি চলে। কিন্তু বিয়ের পরে বোন ভাইয়ের কাছ থেকে সুন্দর আচরন পাওয়াটা স্বপ্নের মত হয়ে যায়। তাহলে এইসবের নেপথ্য কি? শুধু কি ঘরের বউ? নাকি পরিবারের সকলের সুন্দর মানসিকতার অভাব? বিবাহিত এমন কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন বিয়ের পরে আপনজনদের সাথে দুঃসম্পর্ক হয় নাই? বিবাহিত এমন কোন বউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন শশুড় শাশুড়ি এবং দেবরের সাথে দুঃসম্পর্ক হয় নাই? এমন শাশুড়ি কি পৃথিবীতে আছেন ছেলের বউকে আপনার মেয়ের মত করে রেখেছেন? এমন দেবর কি আছেন আপনার ভাবীকে বোনের নজরে দেখে রেখেছেন? বউ শাশুড়ি এবং দেবর ভাবী এই সম্পর্ক গুলা তেল আর জলের মত। তেল আর জল যেমন কখনও এক হতে পারেনা, এই সম্পর্ক গুলা ও তেমনি মধুর হতে পারেনা, যদি ও মধুর হয় তাহলে তা হয় সাময়িক বা লোক দেখানোর জন্য। একান্নবতী সংসারের প্রথম অধ্যায় খুব মধুর এবং সুন্দর থাকে, দ্বিতীয় অধ্যায় চলে একে অন্যের খুনসুটি খোজা খোজি। শেষ অধ্যায় খুব ভয়ানক পরিনতি আকার ধারন করে। যেমন- বউ শাশুড়ির তুমুল বাক বিতন্ড, দুই জা এর স্নায়ু যুদ্ধ, ভাইয়ে ভাইয়ে তর্ক বিতর্ক। এমনকি মুখের তর্ক থেকে হাতাহাতিতে রুপ ধারন করে। এমন ও শোনা যায় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন। কি নির্মম দৃশ্য!!!! যে সংসারে কয়েকদিন আগে ও দেখা যেত কি সুন্দর দৃশ্য, সময়ের ব্যাবধানে সেই সংসারে ধোপের আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আর তখনই শুরু সংসার ভাঙ্গন, একই ছাদের নিচে তৈরি হয় আলাদা আলাদা রান্না ঘর। একই ছাদের নিচে থেকে ও কেউ কারো ছায়া সহ্য করতে পারে না, কথা বলা তো অনেক দূরে। আর তখনই মা বাবার আফসোসের মাত্রা বাড়তে থাকে, ভাবতে থাকে এই হানাহানির চেয়ে ছেলেরা বিয়ের সাথে সাথে আলাদা সংসার করে দেয়াটাই ভালো ছিলো। শেষ পর্যন্ত একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং ভালবাসাটা ও থাকলো না। তিল তিল করে গড়া মায়ার সংসার এক সময় অভিশাপের সংসারে পরিনত হয়ে গেলো। তাহলে এই অভিশাপের সংসারের জন্য কাকে দোষারুপ করবো? বউ? মা-বাবা? ভাই? এর জন্য দায়ী আমাদের সমাজের কূ-প্রথা এবং ভালো থাকার অভিনয়ের প্রতিযোগিতা। মা-বাবা সমাজে অহংকার করে বলে বেড়াবে আমার ছেলেদেরকে বিয়ে করিয়েছি, কিন্তু এখন ও আমরা যৌথ সংসারে আছি। এই সামান্য মিথ্যা অভিনয়ের জন্য শেষ পরিনতি ভয়াবহ হয়ে দাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে মা বাবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কমে যায়। একান্নবতী সংসার হলো নিস্তরঙ্গ জলের মতো। হঠাৎ করেই যদি এর মধ্যে ঢিল পড়ে তা হলে তাতে দেখা দেবে ঢেউ, এই ঢেউ ইতিবাচক নয়, নেতিবাচক। যে ঢেউ আর্থিক ও মানসিকভাবে করে আঘাত। সংসারের সাজানো গোছানো দৈনন্দিন কর্মকান্ডের রুটিনে পড়ে ছেদ। লিখেছেন : প্রবাসী লেখক আবুবকর সিদ্দীক


Spread the love