এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় চাটমোহরের দুই শতাধিক শিক্ষক কর্মচারীর মানবেতর জীবন যাপন বন্ধ ১০শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

61
Spread the love

771111 copyইকবাল কবীর রনজু : দীর্ঘ দশ পনেরো বছর যাবত পাঠ দান কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও চাটমোহরের প্রায় ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত না হওয়ায় দুই শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘদিনেও এমপিও না হওয়ায় ইতিমধ্যে অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। জমি, গরু বাছুর বিক্রি করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে লাখ লাখ টাকা ডোনেশন দিয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও বছরের পর বছর বেতন ভাতা না পেয়ে নন এমপিও ভূক্ত শিক্ষকেরা যেন ক্লান্ত হয়ে পরেছেন। অনেকে ইতিমধ্যে শিক্ষকতা ছেড়ে চলে গেছেন অন্য পেশায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের পর চাটমোহরে হান্ডিয়াল কলেজ, চলনবিল কলেজ, এম এ মাহমুদ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, সৈয়দ আলী মোল্লা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, রামচন্দ্রপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, চাটমোহর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, এম এ আউয়াল টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, চরসেনগ্রাম মহিলা ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট, পার্শ্বডাঙ্গা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, পবাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নবীন চরনবীন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেংড়ি হেফজুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসা, মহেলা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, কদমতলী দাখিল মাদ্রাসা, কৃষ্ণপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, সোনাহার পাড়া দাখিল মাদ্রাসা, জয়ঘর সমন্বিত দাখিল মাদ্রাসা, হরিপুর মোমেনাবাদ দাখিল মাদ্রাসা, ভেংড়ি দাখিল মাদ্রাসা, কাটেঙ্গা গোরস্থান দাখিল মাদ্রাসা, দোলং মহিলা মাদ্রাসা, নারিকেল পাড়া মডেল এতিমখানা দাখিল মাদ্রাসাসহ প্রায় দুই ডজেন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।  এমপিও না হওয়ায় এর মধ্যে অন্তত ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বয়েন উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, হাজী মেহের উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বামনগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়, মহেলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হরিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কাটাখালী উচ্চবিদ্যালয়, বিলচলন ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়, ধানকুনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, উত্তরসেনগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়, নিমাইচড়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মির্জাপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বড়বেলাই উচ্চবিদ্যালয়, হান্ডিয়াল বালিকা বিদ্যালয়, লাঙ্গলমোড়া উচ্চবিদ্যালয়, ছাইকোলা ইউনিয়ন আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ছাইকোলা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশ কিছু বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তর চালু করলেও এখনো এমপিওভূক্ত হয়নি। ফলে নিয়োগকৃত শিক্ষকগন বছরের পর বছর ক্লাস নিলেও বঞ্চিত হচ্ছেন বেতন ভাতা থেকে। কোন মতে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটছে। পরিবার পরিজনের গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাদের। স্ত্রী, সন্তান, পিতা, মাতা কারো চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারছেন না তারা। হান্ডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোহসীন জানান, ১৯৯৮ সালে স্থাপিত হয় হান্ডিয়াল কলেজ। ২০০২ সালে পাঠ দানের অনুমোদন পান তারা। ২০০৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতিও পান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো এমপিওভূক্ত হয় নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে দুইজন অধ্যক্ষ মৃত্যুবরণ করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের ২৭ জন শিক্ষক কর্মচারী অবর্নণীয় কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এই কলেজে পড়া লেখা করে অনেক ছাত্র ছাত্রী সরকারী বেসরকারী চাকরী করছে অথচ আমরা এখনো বেতন ভাতা পাই না। এম এ মাহমুদ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুল হক জানান, দীর্ঘদিনেও এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় তার প্রতিষ্ঠানসহ চাটমোহরের প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী বেতন ভাতা পান না। বন্ধ হয়ে যাওয়া নারিকেলপাড়া মডেল এতিমখানা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রায় দশ বছর প্রতিষ্ঠান চালানোর পরও এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা আর মাদ্রাসায় আসেন না। পাঠদান ছাত্র ভর্তি সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত চালু রয়েছে অথচ এমপিও ভূক্ত হয়নি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা এমপিও ভূক্তির দাবীতে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, এমপিওভূক্ত না হওয়ায় সত্যি শিক্ষক কমচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘদিন এমপিও ভূক্তির অপেক্ষায় থেকে হতাশ হয়ে অনেকেই জীবন চালানোর জন্য ব্যবসা কৃষিকাজসহ পেশা হিসেবে অন্য কিছু বেছে নিয়েছেন।


Spread the love