কথা দিয়েছিলে তাই আজ ও অপেক্ষায়

493
Spread the love

8161-005-06-1062নাঈম হোসেন :  সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সব কিছু মিলে মানুষের জীবন। জীবন পথে চলতে চলতে কখন যে জীবনের সুখ আলো নিভে, দেখা মিলে আধারের ঘন কুয়াশার তা বুঝতে চাইলেও কখনো কখনো বুঝে উঠা যায় না। যখন  এসএসসি পাশ করে কলেজ জীবনে পা রাখলাম তখন সাল ২০০৮। আমার নতুন জীবনের সূচনা। জীবনের পথ চলা খুব সহজ ছিল। বুঝিনি সেই সহজ পথ চলার পর আমাকে হাটতে হবে আধারের কালো ধোয়ায় যেখানে আলোর আভাস পেলেও দেখা যাবে না কিছুই। পথ চলতে চলতে দেখা তার সাথে জানা হলোনা পরিচয় তবে অজানা দেখতে ছিল ডানা কাটা পরীর মতোন। বুঝতে পারলাম নিস্তব্ধ পাথরের বুকে কেউ আঁকছে কোন কিছু যা থেকে সৃষ্টি হতে পারে ভালবাসার এক ফুল।
এতো কিছু বুঝেছি কি করে? কঠিন ছিল না কারণ, আমাকে বুঝতে হয়নি বুঝে নিয়েছে নিস্তব্ধ পাথরের বুক যা ছিল আমার মন। কিছু দিন পর জানতে পারলাম অজানার নাম হচ্ছে নীলিমা পড়ালেখায় ও খুব ভাল সে আমার ক্লাসেই পড়ে। তবে নীলিমার লজ্জা ছিল একটু বেশিই। ক্লাসের কোন ছেলের সাথে কথা বলা তো দূরের কথা লজ্জায় তাকাতেও পারতো না। চেয়ে রয়েছি না বুঝে তার দিকে, তার বান্ধবীরা বলছে এই নীলিমা দেখ তোর দিকে নীল নামের ওই ছেলেটা কেমন করে চেয়ে আছে। আমি বুঝতে পারি তারা আমার কথা বলছে। নীলিমা আমার দিকে তাকালো অপলক দৃষ্টিতে আমিও তাকিয়ে আছি চোখ ফেরাতে পারলাম না লজ্জায় নীলিমার মুখ লাল হয়ে গেল। মনে হচ্ছিলো আমার চোখের সামনে ফুটা এক ফুটন্ত লাল গোলাপ। কিন্তু এই মনে হওয়াটা যে আমার জীবনের সব চেয়ে বড় ভুলের মাশুল হয়ে দাঁড়াবে তা বুঝতে পারিনি। কিছুক্ষণ পর আবার আমি আমার অজান্তেই নীলিমার দিকে তাকাচ্ছিলাম সেও আমার দিকে আঁড় চোখে দেখছিল। ব্যাপার টি বুঝার পর লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না নীলিমার দিকে মনে হচ্ছিলো আমি যেন নীলিমার মতো লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ নাঈম বলল কিরে নীল তোর কি হয়েছে তোর কোন সাড়া শব্দ নেই কি ভাবছিস এতো। আমার ভাবনার রেশ কেটে গেল। স্বাভাবিক ভাবে বললাম কি ভাববো কি হয়েছে বল। নাঈম তার মতো বক বক করে যাচ্ছে কিন্তু আমার মন তখনও যেন নীলিমার কথা ভাবছে। কিন্ত কেন ভাবছি নীলিমাকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর অজানায় থেকে গেল। কলেজ ছুটি হলে সোজা বাসায়  চলে এলাম আজ আর কোথাও দেড়ি করিনি অন্যান্য দিনের থেকে আজকের দিনটিও ভিন্ন ছিলনা। তবে আজ বাসায় কিছুতেই মন টিকছিল না। কখন বই হাতে বিছানায় গিয়ে পড়তে পড়তে ঘুমের জগতে চলে গেছি তা আমার-ই অজানা ছিল। নীল তুমি আজ আমার দিকে ওভাবে দেখছিলে কেন? নীলিমার এমন প্রশ্নে আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললাম এমন প্রশ্নে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি। নীলিমা আমায় আবার বলল কি হলো উত্তর দাও নীল! আমি না মানে মানে বলতে গিয়ে, আমি তোমায় ভালবাসি নিলিমা আই লাভ ইউ নীলিমা। আমার কথা শুনে নীলিমা আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো আমি তার চোখের ভাষা বুঝতে পারছিলাম না এমন এক মূহুর্তে আমাকে বড় অসহায় মনে হচ্ছিলো। হাত টি চেপে ধরে বললাম আমি তোমায় বড্ড ভালবাসি তোমায় আমি কোত্থাও যেতে দিবোনা । হঠাৎ আম্মু এই নীলের  আব্বু দেখো নীল কেমন যেন করছে এই কথা শুনা মাত্র আমার ঘুমের রেশ কোথায় পালালো তার ঠিক ঠিকানা নেই। কিন্তু আমি কি স্বপ্ন দেখছিলাম! নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
এভাবে দুজন দুজনার অজান্তে দুজন কে ভাল বাসতে বাসতে কাটিয়ে দিলাম কিছু কিছুদিন।
এখনো ঠিক মতো ক্লাস শুরু হয়নি। ক্লাস ঠিক মতো হচ্ছে না কি হয়েছে নীল ও নীলিমার ক্লাসে উপস্থিত হওয়া মিস হয়নি। নীল নীলিমাকে তার ভালবাসার কথা বলবে, সাহস যেন হচ্ছিলো না তবু বলতে চাই আজ আমাকে বলতেই হবে। নীলিমার সামনে দাঁড়িয়ে, কিছু বলবে নীল? আসলে একটা কথা বলার ছিল তোমায়, আমি তোমায় ভালবাসি নীলিমা। নীলিমা কিচ্ছু বলল না হাসতে হাসতে চলে গেল। আমি আর কিছুই বলতে পারিনি এটুকু বলতেই হাপিয়ে উঠেছিলাম। উত্তর হ্যা সূচক হলো শুরু হলো ভালবাসার অধ্যায়.. ভালবাসার চাদরে জরিয়ে গেলাম দুজনে। তখন একটি  গান  খুব মনে পড়েছিল, দুজন দুজনার কতো যে আপন কেউ জানেনা! তবে একটি কথা স্পষ্ট ছিল ভালবাসা কি তা দুজনের কেউ বুঝতাম না। কিন্তু একে অপরকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসতাম। শুক্রবার অপেক্ষায় আছি কখন ১২ টা ৩০ মিনিট হবে কথা হবে নীলিমার সাথে এসব ভাবতে ভাবতে কাছে থাকা ফোন বেজে উঠলো। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ফোন আসলো নাকি আমি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছি। নিজে নিজেকে চিমটি কাটলাম আর বলে উঠলাম ইশ আমি তো জেগেই আছি ফোন ধরতে আর এক সেকেন্ড ও দেরি করলাম না। হ্যালো কেমন আছো তুমি? আজ সাত দিন পর নীলিমার সাথে আমার কথা হচ্ছে নীলিমার কন্ঠ কানে বেজে উঠার পর কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না কিছুক্ষন চুপ থাকলাম তারপর ভাল আছি তুমি কেমন আছ? ক্ষিণ আওয়াজে ভাল আছি এতোক্ষন চুপ করে ছিলে কেন? আমিতো তোমার কথার নিশ্বাসটুকু আমার করে নিচ্ছিলাম। নীলিমা ইমোশনাল কন্ঠে বলল তুমি না একটা পাগল! দু-মিনিট কথা হতে না হতেই, এই আম্মু আসছে ফোন রাখছি পরে কথা হবে এই বলে ফোন কেটে দিল। পরে যে কখন কথা হবে কেউ না জানলে আমি জানতাম আবার সেই শুক্রবার কখন হবে ১২ টা ৩০। নীলিমা যখন ফোন কেটে দিল নিজেকে বোঝাতে পারছিলামনা  বুকের ভিতর টা হাঁহাকার করছিল কেঁদে উঠলো মন তবে কিছুই করার ছিলোনা আমার পরিস্থিতিকে তো মানতেই হবে। এভাবেই চলছিল আমার আর নীলিমার ভালবাসা।
একদিন আমি নিজের অজান্তে নীলিমাকে বললাম তোমায় একটা কথা বলবো, নীলিমা বললো আমায় কথা বলতে বুঝি তোমাকে অনুমতি নিতে হয়? আমি ক্রমশ ইমোশনাল হয়ে পরছিলাম কথাটা বলতে, তুমি আমায় কোনদিন ভুলে যাবে নাতো নীলিমা? আজ এমন কথা বলছো যে, শোনো নীল আমি তোমায় ভালবাসি এ কথার চেয়ে বড় সত্য এখন আর জানা নেই জীবনে যত বড় বাধাই আসুক না কেন আমি তোমায় কোনদিন ভুলতে পারবো না মনে রেখো নীল তুমি যদি কোনদিন মনে কর আমি তোমায় ভুলে গেছি কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দন  সেদিনও বলবে ভালবাসি নীল, তোমায় আমি ভালবাসি! আমি নীলিমার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম কথা গুলো বলার পর নীলিমার চোখ ছল ছল করছিল। নীলিমা হয়তো চেষ্টা করছিল চোখকে বাধ মানাতে কিন্তু চোখ কি নীলিমার কথা শুনবে? আমি বুঝেছিলাম সেদিন নীলিমা আমাকে কতটুকু ভালবাসে। নীলিমা আমি জানি তুমি আমায় জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাস কিন্তু তুমি এও কি জানো আমি তোমায় কতটুকু ভালবাসি জানো হয়তো তোমায় অনেক ভালবাসি কিন্তু কতটুকু ভালবাসি তা আঁচ ও করতে পারবেনা তুমি শুধু এতোটুকু জেনে রেখো নীলিমা তুমি যেদিন হারিয়ে যাবে সেদিন আমার মরণ হবে। এভাবেই চলছিলো ভালবাসার সময়টুকু … সাল ২০১০ সামনে এইচএসসির ফাইনাল পরীক্ষা দুজন-ই ভাল রেজাল্টের আশায় পড়ায় মনোযোগ বাড়ালাম। বলতে ভুলেই গেছি আমাদের ভালবাসার জন্য আমাদের পড়ারলেখায় কোন ক্ষতি হতে দিইনি। বরং দুজন কিভাবে ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট করবো তা নিয়েই অনেক টেনশনে থাকতাম। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল পরীক্ষার আগের দিন অনেক কষ্টে নীলিমার সাথে এক মিনিট কথা বলেছিলাম, ভাল করে পরীক্ষা দিও আমাকে নিয়ে ভেবে অযথা সময় নষ্ট করো না আর হ্যা নিজের খেয়াল রেখ। নীলিমা আমায় বলেছিল তুমিও ভাল করে পরীক্ষা দিও নিজের খেয়াল রেখো আর হ্যা ভাল থেকো। আমি কখনো ভাবিনি এই কথায় ছিল নীলিমার সাথে আমার জীবনের শেষ কথা। কিন্তু জানলেই বা কি করার ছিল আমার জানিনা।
পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল আমি এবং আমার পরিবার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে চলে গেলাম দাদু অসুস্থ ছিল ভাবলাম অনেকদিন দাদুকে দেখিনা তারপর আবার দাদু  অসুস্থ তাই চলে এলাম। রাজশাহীর কোন এক গ্রামে আমার বাড়ি এসএসসি পাশ করার পর পড়ালেখার জন্য ভাগ্যক্রমে আমাকে সিলেট আসতে হয়। মূলত এখানে আমার আব্বু চাকরি করতো। বাড়িতে যাওয়া হয়ে ওঠেছিলনা বললে চলে। কিন্তু খুব কষ্ট হতো তবে নীলিমার ভালবাসায় আমি কষ্টকে পরাজিত করেছিলাম। অনেকদিন হয়ে গেলো নীলিমার সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি আমার মনে কেন জানি একটা ভয় কাজ করছিল নিজেকে প্রশ্ন করেছি অনেকবার উত্তর খুঁজে পাইনি। দাদু এখন অনেক টা সুস্থ হয়ে উঠেছে আর মাত্র তিনদিন আমার রেজাল্ট বের হবে তবে রেজাল্টের জন্য যতোটুকু টেনশন হচ্ছিলো না তার চেয়ে বেশি টেনশন হচ্ছিলো আমার ভালবাসার পাগলিটাকে নিয়ে নিশ্চয় এতোদিনে আমার কথা ভাবতে ভাবতে নিজের খেয়ালটাও ঠিক মতো রাখছেনা। পরের দিন আমি এবং আমার পরিবার সিলেটের উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম ১৪ ঘন্টা জার্নি করার পর সিলেট পৌছলাম বন্ধুরা আমায় নিতে সিলেট বাস স্টান্ডে অপেক্ষা করছিল। তারপর বাসা থেকে এলাম কলেজের হোস্টেলে আজ আমার বন্ধুদের কেমন জানি মনমরা দেখাচ্ছে। আমি প্রশ্ন করলাম কিরে তোদের কি হয়েছে তোদের এমন দেখাচ্ছে কেন? কেউ কোন উত্তর দিলো না সবাই যেন ব্যস্ততা দেখালো। আমি গোসল করে  ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি একটু ঘুমিয়ে পড়লাম বিকেলে ঘুম থেকে উঠে কলেজের পুকুর পারের ওইদিক টাই ঘুরছিলাম কিন্তু অনেকে আমার দিকে আজ এভাবে তাকাচ্ছে কেন মনে হচ্ছে  আমাকে যেন তারা নতুন ভাবে  নতুন কোন রুপে রহস্যের চোখে দেখছে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো আমি রুমে চলে এলাম দেখি আমার বন্ধুরা আমায় নিয়ে কি সব কথা বলাবলি করছে তাদের মাঝে আমি রুমে ঢুকতেই তাদের কথা বন্ধ হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি হয়েছে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমার কিছু একটা হয়েছে কিন্তু বুঝে উঠার ক্ষমতা যেন ছিল না। নীলিমার কথা খুব মনে পড়ছিল কতদিন হয়েগেছে নীলিমাকে দেখিনি মনের ভিতরটা খুব ছটফট করছিল।  আমি আর পারছিলাম না এই তোদের কি হয়েছেরে আমি আসার পর থেকে দেখছি তোরা কেমন হয়ে আছিস! তোরা কি কিছু বলবিনা আমায়? সবাই চুপ করে থাকলো কেউ কিছু বলছেনা আমায় আমি তাদের বললাম প্লিজ দোস্ত আমার দোহাই লাগে কিছু বল আমি যে আর পারছিনা। আরফান আমায় বলল দেখ নীল তুই যা ভাবছিস তেমন কিছু না। আমি কি ভাবতে যাবো আবার? দেখ তোরা যা বলবি প্লিজ খুলে বল আসলে নীলিমার…..! নীলিমা নাম মুখে আনতেই নাঈম আরফানের মুখ চেপে ধরল আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না নিশ্চয় নীলিমার কিছু একটা হয়েছে। দেখ দোস্ত আমি তোদের অনেক ভালবাসি আর বিশ্বাসও করি প্লিজ বল আমার নীলিমার কি হয়েছে নীলিমা কেমন আছে? আমাকে এমন এক মুহুর্তে পৃথিবীতে বড় অসহায় মনে হচ্ছিলো। আমার কসম লাগে নাঈম প্লিজ তোরা চুপ থাকিস না নাঈম আমায় বলল নীল দেখ মানুষের জীবনে ভালবাসা আসে আবার চলেও যায় কেউ সুখি হয় কেউ হয় চিরোদুঃখি কাউকে পোহাতে হয় অসহনীয় কষ্টের প্রহর। আমি জানি নীল তুই নীলিমাকে তোর জীবনের চেয়ে অনেক ভালবাসিস কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কথা কেউ বলতে পারেনা। নাঈম কে আমি এভাবে ইমোশনাল হয়ে কথা বলতে কখনো দেখেনি নাঈমের  কথা শুনে আমার বুকের ভিতরটা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল সাগরের ঢেউ বিষাদের সুর তুলেছে আমার চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু নামক বৃষ্টি ঝরছিল বাধ মানাতে পারিনি। আমি আর কিছুতেই ধৈর্য ধরতে পারছিলাম না প্লিজ নাঈম আমার নীলিমার কি হয়েছে বল? নাঈম আমার কাধে হাত রাখলো দেখলাম তার চোখ থেকে একফোঁটা অশ্রু ঝরে পরলো নীল তোর নীলিমা অনেক ভাল আছেরে কিন্তু তুই কতটুকু ভাল থাকবি তা নিয়ে বড্ড ভয় হচ্ছে, এক সপ্তাহ হলো নীলিমার বিয়ে হয়েছে আর দুদিন হলো নীলিমাকে নিয়ে লন্ডন চলে গেছে।  কথাটি শোনার পর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না দু হাটু মাটিতে ফেলে বসে গেলাম চিৎকার দিয়ে বলেছিলাম নীলিমা তুমি আমায় ছেড়ে কোথাও যেতে পারোনা নীলিমা তুমি আমার বলে মাটিতে ঢলে পরে গেলাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি। যখন চোখ মেলেছিলাম চোখ থেকে ঝরছিল অঝোর ধারায় অশ্রুর বন্যা হয়ে। পেরিয়ে গেছে কয়েক বছর আজ আমি ক্যারিয়ার গড়েছি অনেক বড় চাকরি করছি কিন্তু  নীলিমার ভালবাসাকে ভুলতে পারিনি তা আজও আমার মনে পিড়া দেয়। জানো নীলিমা আজও আমার হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দন ধুঁকে  ধুঁকে কাঁদে ভুলতে পারিনি তোমায়। ভুলবো কি করে তুমি যে বলেছিলে, যদি কোনদিন মনে করি তুমি আমায় ভুলে গেছো তবে সেদিনও তোমার হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দন কেঁদে কেঁদে বলবে আমি শুধু তোমায় ভালবাসি নীল তোমায় ভালবাসি। তোমার সেই ভালবাসাকে উপেক্ষা করে তোমায় ভুলে যাবো কি করে বলো? তুমি বলেছিলে তাই আজও অপেক্ষায়।


Spread the love