কবি নজরুলের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

159
Spread the love

বিডিজাহান image_2070_261654ডেস্ক :’গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান…..’। মানবতার জয়গানে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। দ্রোহে ও প্রেমে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। তিনি ছিলেন চির বিদ্রোহী। সেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মানুষ স্মরণ করবে তাঁকে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। অন্যায়, অত্যাচার আর জুলুমের বিরুদ্ধে তিনি তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে সোচ্চার ও আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। তার রচিত কবিতা, গান ও গল্প বাংলাসাহিত্যের ভান্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কবিতা লেখার কারণে কারাগারে নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে কবিকে। তবুও এই মহান পুরুষ ব্রিটিশ শাসকদের কাছে মাথানত করেননি। পরাধীনতার নিগড় থেকে বের হয়ে আসার জন্য তার আগুন ঝরা কবিতা এবং গানের মধ্য দিয়ে আজীবন সংগ্রাম করেছেন এই কবি। বাঙালির নবজাগরণ এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণার উৎস ছিল তার গান ও কবিতা। যে কারণে বিদ্রোহী কবি আমাদের জাতীয় কবিতে পরিণত হয়েছেন। কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। বাবা কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুলকে ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দেওয়া হয় একুশে পদক। কবির জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। ৭৭ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবি নজরুল তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই,/যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই’। সেই বিবেচনাতেই কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়। এদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সামনে চলার পথে এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার কবিতা ও গান যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাসহ সব মুক্তিকামী মানুষকে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগীয়েছে। আজও তার কবিতা ও গান আমাদের সাহস ও শক্তি যোগায়।
কর্মসূচি : জাতীয় কবির ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থার পক্ষ থেকে বরাবরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও আলোচনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: আজ বৃহস্পতিবার বাদ ফজর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরানখানি, সকাল ৭টায় কলা ভবন প্রাঙ্গণে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অফিসার ও কর্মচারীগণ জমায়েত এবং ৭:১৫ মিনিটে উপাচার্যের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে কবির মাজারে গমন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ। মাজার প্রাঙ্গণে উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগ : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বিএনপি : আজ সকাল ৭টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র পক্ষ থেকে কবির মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট : মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৭টা কবির কররে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
বিশ্ব কবিতাকণ্ঠ পরিষদ : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিস্থলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে বিশ্ব কবিতাকণ্ঠ পরিষদ। এ ছাড়া কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়াও করা হবে।


Spread the love