কবি মিলু কাশেমের জন্মদিনে অন্যরকম এক আড্ডা

87
Spread the love

1মুনশি আলিম, আম্বরখানা, সিলেট : মিলু কাশেম এক আলোকিত মানুষ। একাধারে তিনি কবি, গীতিকার, লেখক, সাংবাদিক, সংগঠক প্রভৃতি বহুগুণে গুণান্বিত মানুষ। ১৯৫৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ষোলঘর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে হলেও সিলেট শহরের আলো-বাতাসেই লেখাপড়া এবং বেড়ে ওঠা। ১৯৭৩ সালে আবুল কাশেম মিলু নামে লেখালেখির শুরু। সত্তরের দশকে ছড়া লিখে তিনি দুই বাংলাতেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। দৈনিক বাংলা পত্রিকার জনপ্রিয় ছোটদের পাতা ‘সাত ভাই চম্পা’র মাধ্যমে তিনি মিলু কাশেম নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে ‘সাপ্তাহিক যুগভেরী’ পত্রিকার সাথে জড়িত হন। তাঁর বর্নাঢ্য জীবনে তিনি ১৯৭৭ সালে সামরিক জান্তাবিরোধী আন্দোলনের কারণে কারাবরণও করেন। বহমান সময়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিগত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুতে জীবন-জীবিকার অন্বেষণে ইউরোপে পাড়ি জমান। প্রথম প্রবাস গড়েন হলান্ডের আমস্টারডামে। এরপর ভাগ্যক্রমে জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, ইতালি, স্পেন অর্থাৎ পূর্ব পশ্চিম ইউরোপের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ১৯৯২ সালে দেশে ফিরে সাপ্তাহিক ‘সংবাদচিত্র অপরাধচিত্র’র মাধ্যমে মিলু কাশেম পুনরায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি ছিলেন সংবাদ চিত্রগ্রুপ অব পাবলিকেশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান। তিনি কিছুদিন সিলেট থেকে প্রকাশিত জাতীয় পাক্ষিক ‘পনের দিন’র নির্বাহী সম্পাদকও ছিলেন। আজকের বিচিত্রা, সাপ্তাহিক প্রতিচিত্র, সাপ্তাহিক দেশচিন্তাসহ দৈনিক কাজীর বাজার পত্রিকার সাথেও তিনি দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট বিভাগের ক্রাইম রিপোর্টার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সংবাদ ও সাহিত্য এ দুটোকেই তিনি জীবনের ধ্যান-জ্ঞান মনে করেন। যদিও বর্তমানে তিনি কবি ও গীতিকার হিসেবে সমধিক পরিচিতি, তবুও সাংবাদিকতার মতো সৎ ও সাহসী পেশার অভিজ্ঞতাকে এখনো তিনি তার সাহিত্যের বাঁকে বাঁকে কাজে লাগান। আড্ডার আসরে তিনি খুবই খোলামেলা এবং আন্তরিক। তিনি অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ঠ গীতিকার। আজ তার ৫৭তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে সিলেটে সাহিত্য চর্চার অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র বৃন্দস্বরে এক অন্তরঙ্গ আড্ডার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কবি এ গবেষক একে শেরাম, কবি ও গীতিকার শামসুল আলম সেলিম, ছড়াকার পুলিন রায়, কবি ও প্রাবন্ধিক প্রিন্স সদরুজ্জামান, কবি মোহাম্মদ হোসাইন, কবি ও অধ্যাপক জাফর ওবায়েদ, কবি আবিদ ফায়সাল, কবি খালিদ উদ-দীন, ছড়াকার সৈয়দ মুক্তদা হামিদ, কবি ও গল্পকার মুনশি আলিম, কবি মেকদাদ মেঘ, কবি মিনহাজ ফয়সল, ফটো সাংবাদিক শরীফ গাজী প্রমুখ। এতে ঘরোয়া আলোচনায় সবাই কবি মিলু কাশেমের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

 


Spread the love