কবি শামসুর রাহমানের ৮৭তম জন্মদিন আজ

89
Spread the love

12_r3_c12বিডিজাহান ডেস্ক: আধুনিক বাংলা কবিতার বরপুত্র কবি শামসুর রাহমানের ৮৭তম জন্মদিন আজ। ১৯২৯ সালে ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্ম নেয়া এই কবি ৬১টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। কবি জীবনানন্দ দাস পরবর্তী বাংলা কবিতাকে আধুনিকতার পথে অগ্রসর করতে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৪৮ সালে সাপ্তাহিক সোনর বাংলায় ‘উনিশশ’ উনপঞ্চাশ’ শিরোনামে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে ১৯৫৮ সালে সিকান্দার আবুজাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘হাতির শুড়’ কবিতা। ১৯৫৯ সালে ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় তার প্রথম আত্মপ্রকাশ। ষাটের দশকে কবির প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ গুলোর মধ্যে রয়েছে-রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ, আমি অনাহারী ইত্যাদি। উনসত্তরের শহীদ আসাদকে নিয়ে লিখেছেন ‘আসাদের সার্ট’। সত্তরের নভেম্বরে ভয়াল জলোচ্ছাসের পর মওলানা ভাসানীর পল্টনের ঐতিহাসিক জনসভার পটভুমিতে রচনা করেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘সফেদ পাঞ্জাবী’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে লেখেন কবিতা ‘টেলেমেকাস’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে লিখিত তার দুটি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ এবং ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ একই সাথে পাঠক ও বোদ্ধাদের কাছে সমাদৃত হয়। শহীদ নূর হোসেনকে উৎসর্গ করে রচনা করেন ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’। সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লিখেছেন ‘অদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’। মৌলবাদের বিরুদ্ধে লিখেছেন ‘ইকারুসের আকাশ’। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন ‘একটি মোনাজাতের খসড়া’। কবি শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছুদিন কাজ করার পর ১৯৫৭ সালেই তিনি রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে তিনি পুনরায় মর্নিং নিউজে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালের শেষের দিকে কবি শামসুর রাহমান দৈনিক পাকিস্তানের সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। সেখানে তিনি ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। কবি শামসুর রাহমান একাধারে ছিলেন দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র সম্পাদক। কবিতার পাশাপাশি তার উপন্যাস, গান, শিশু সাহিত্য, প্রবন্ধ বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। তিনি রাষ্ট্রীয় সব সম্মাননাসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কবি শামসুর রাহমানকে তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকায় বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে সমাহিত করা হয়।


Spread the love