কমেছে স্বর্ণের দাম কিন্তু বাড়েনি ক্রেতা

133
Spread the love

goldনিজস্ব প্রতিবেদক : স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার সাথে সাথে দেশের বাজারে কমছে স্বর্ণালঙ্কার ক্রেতাও। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর এক বছরের ব্যবধানে বিক্রির পরিমাণ তিনভাগের দুই ভাগে চলে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সোনার দাম আরও কমবে। ফলে দাম কমার প্রত্যাশায় বর্তমান দামে আগ্রহী অনেকেই স্বর্ণালঙ্কার কিনছেন না। একই সঙ্গে নতুন অর্থবছরের ভ্যাট নীতিও স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আমিন জুয়েলার্সের বিক্রয় নির্বাহী সুশান্ত জানান, সোনার দাম কমার কারণে অলঙ্কার বিক্রির পরিমাণ ব্যাপক হারে কমে গেছে। এক বছর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হতো, এখন তা কমে ৬-৭ লাখ টাকায় চলে এসেছে। তিনি বলেন, দাম যখন বেশি ছিলো তখনও বিক্রি বেশ ভালো ছিলো। কিন্তু দাম কমার পরেই বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা মনে করছেন সামনে দাম আরও কমবে। এ জন্যই হয়তো তারা এখন দাম কমার পরও অলঙ্কার কিনছেন না।

আরেক জুয়েলার্সে বিক্রেতা জানান, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেসবুকে সোনার দাম আরও কমার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এমন প্রচারণার কারণে সোনার অলঙ্কার বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ‘আগে বিয়ে বাড়ির গহনার জন্য বায়না দেওয়া হতো। বর্তমানে কেউ গহনার জন্য বায়না দিচ্ছেন ‍না। কম দামে গহনা পাওয়ার আশায় যখন প্রয়োজন ঠিক তার এক দুই দিন আগে তাৎক্ষণিক নগদ টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন’, বলেন অমিত।

তিনি আরও জানান, দাম কমার সঙ্গে নতুন অর্থবছরের ভ্যাট নীতির কারণে অলঙ্কার বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগে যেখানে ৩ শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো, এখন তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। শারমিন জুয়েলার্সের সাগর বলেন, রোজার ঈদের পরও কিছুদিন সোনার অলঙ্কারের বাজার ভালো ছিলো। কিন্তু পরপর দুই সপ্তাহে দেশের বাজারে দুবার সোনার দাম কমানোর কারণে বিক্রি একেবারে কমে গেছে। এক বছর আগেও বিক্রি খুব একটা ভালো ছিলো না। তার পরও বর্তমানে এক বছর আগের তুলনায় বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

এদিকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সর্বশেষ (৬ আগস্ট) নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ৪১ হাজার ৭৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ৩৯ হাজার ৬৫৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ৩৩ হাজার ৯ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২১ হাজার ৮৭০ টাকা।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ২৪ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৪১৭ ডলার ৩৪ সেন্ট। ডলার প্রতি ৮০ টাকা ধরলে আন্তর্জাতিক বাজারে ২৪ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩৩ হাজার ৩৮৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হয় আউন্স হিসেবে। এক আউন্সে হয় ৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম। আর এক ভরিতে হয় ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।

বিশুদ্ধ স্বর্ণ সব থেকে বেশি পাওয়া যায় ২৪ ক্যারেটের সোনায়। ২৪ ক্যারেটে স্বর্ণের বারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আর ২২ ক্যারেটে বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে ৯১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২১ ক্যারেটে বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৮ ক্যারেটে বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে ৭৫ শতাংশ। তবে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণে কী পরিমাণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ পাওয়া যাবে তার কোনো মানদণ্ড নেই। কারণ এই পদ্ধতির স্বর্ণ পাওয়া ‍যায় পুরনো স্বর্ণ‍ালঙ্কার গলিয়ে।

অর্থাৎ ২৪ ক্যারেটের তুলনায় ২২ ক্যারেটে বিশুদ্ধ স্বর্ণ কম থাকে ৮ শতাংশের ওপরে। আর ২১ ক্যারেটে বিশুদ্ধ স্বর্ণ কম থাকে প্রায় ১৩ শতাংশ। তারপরও ২৪ ক্যারেটের চেয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে ৮ হাজার ৩৭০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এমনকি ২১ ক্যারেটের মধ্যমানের স্বর্ণের দামও দেশের বাজারে ২৪ ক্যারেটের তুলনায় ৬ হাজার ২৮০ টাকা বেশি। আর আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামে ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে, সেই দামে দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নিম্নমানের ১৮ ক্যারেট (২৪ ক্যারেটের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম) স্বর্ণ। এ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এখনও অনেকটাই বেশি।


Spread the love