কুশিয়ারা নদীতে একটি ব্রীজ নির্মাণের লাখো মানুষের দাবী

67
Spread the love

bd h 1সিলেট প্রতিনিধি : রাজনগর-বালাগঞ্জ রাস্থায় কুশিয়ারা নদীতে দুটি উপজেলার মানুষের প্রানের দাবী একটি ব্রীজ। একটি ব্রীজের অভাবে যুগের পর যুগ চরম অবহেলায় রাজনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের প্রায় দশ লাখ মানুষ। অবহেলিত এ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মান হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসায়-বানিজ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সূচিত হবে এক সম্ভাবনাময় যুগের। এ অঞ্চলের মানুষের দাবীর যথার্থতা বিবেচনা করে সদ্য প্রয়াত সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ব্রীজের ব্যবস্থা হবার আগ পর্যন্ত ফেরি চলাচলের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন বৃটিশ আমলে বাংলাদেশের নৌ’বন্দর গুলোর অন্যতম ছিল কুশিয়ারা ও কাউয়াদীঘি হাওর তীরবর্তী রাজনগর-বালাগঞ্জের মধ্যবর্তী বিলবাড়ি। বৃহত্তর সিলেটের ব্যবসায়-বানিজ্যের একমাত্র নৌ’বন্দর হিসেবে এর খ্যাতি রয়েছে দেশে-বিদেশে। দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের পদচারণায় দিন রাত মুখরিত থাকতো এ অঞ্চল। সে সময় রাস্থা-ঘাট ততটা উন্নত না থাকার কারণে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নদী পথের লঞ্চ, ষ্টিমার ও ইঞ্জিনের নৌকা। তৎকালীন বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা  কুশিয়ারা নদী তীরের এ বন্দর থেকে বিভিন্ন দ্রব্য সংগ্রহ করে ব্যবসায়-বানিজ্য করতেন। সে সময়ে ব্যবসায়-বানিজ্যের পণ্য সংগ্রহের এক মাত্র কেন্দ্রই ছিল কুশিয়ারা-কাউয়াদীঘি হাওর তীরবর্তী রাজনগর-বালাগঞ্জ মধ্যবর্তী বিলবাড়ি অঞ্চল। কালের বিবর্তনে এবং দেশের স্থলপথের উন্নয়নের ফলে এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসায়-বানিজ্য সহ সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। বছরের পর বছর চরম অবহেলিত এ অঞ্চলের হাজার হাজার পেশাজীবি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নৌকা যুগে কুশিয়ারা পার হয়ে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। রাজনগরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো দূরবর্তী হওয়ায় স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কুশিয়ারা নদী পার হয়ে বালাগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করছে। বিভিন্ন সময় নৌকাডুবির মত মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাই অবহেলিত এ অঞ্চলের লোকজনের দাবী কুশিয়ারা নদীর উপর একটি ব্রীজ। ব্রীজটি নির্মান হলে শুধু রাজনগর-বালাগঞ্জ নয় পার্শ্ববর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ ও ওসমানীনগর থানার মানুষও উপকৃত হবে। এসব অঞ্চলের মানুষ সিলেট মৌলভীবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায, উভয় তীরের মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে বিগত ২০১৩ সালে কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী বিলবাড়ি অঞ্চলে একটি ব্রীজ নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শনে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলী অধ্যাপক সুজিত কুমার বালা ও অধ্যাপক তারেকুল ইসলাম। তারা ব্রীজ নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কুশিয়ারা তীলবর্তী বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে তাদের পরিদর্শন রিপোর্টটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করেন। পরিদর্শনের সময় তাদের সাথে ছিলেন বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান, রাজনগর-মৌলভীবাজারের সংসদ সদস্য সদ্য প্রয়াত সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর প্রতিনিধি সৈয়দ মোস্তাক আলী, বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর, রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী রুবাইয়াত জামান, বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান সহ উভয় এলাকার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, তৎকালীন সমাজকল্যান মন্ত্রী সদ্য প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলী মন্ত্রী হবার পর গত বছরের ১১ ফেব্রুযারী রাজনগরে তাকে দেয়া এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এলাকার মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি ঘোষনা করেছিলেন তিন মাসের মধ্যে রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে কুশিয়ারা নদীর উপর ফেরীর ব্যবস্থা করা হবে এবং তিন বছরের মধ্যে ব্রীজের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু  ঘোষনার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সরকার আজ অবদি ফেরির ব্যবস্থা করতে পারেনি। বিগত ২৫মে উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুশিয়ারা ব্রীজের নির্মান কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে মন্ত্রী পূনরায় ঘোষনা দিলেও তার অকাল মৃত্যুতে ব্রীজটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী রুবাইয়াত জামান জানান, রাজনগর-বালাগঞ্জ রাস্থায় কুশিয়ারা ব্রীজের জরিপ কাজ শেষে ৪২ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে তা একনেক সভার এজেন্ডাভূক্ত রয়েছে। একনেকে পাশ হলেই যথাযত প্রক্রিয়া শেষে রাজনগর এলজিইডি বিভাগের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।
বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর জানান, রাজনগর-বালাগঞ্জ রাস্থায় কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের জন্য আমি নিজেও কাজ করছি। কুশিয়ারা নদীর উপর শুধুমাত্র একটি ব্রীজ অবহেলিত এ অঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ মানুষের ব্যবসা-বানিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, আর্থিক উন্নয়ন সহ সর্বক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সৃষ্ঠি করবে। তিনি বলেন, অবহেলিত এ জনপদের মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যত দ্রুত সম্ভব কুশিয়ারা নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মান করা প্রয়োজন।


Spread the love