খুলনায় স্কুল ছাত্রীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ

89
Spread the love

bdনিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা : এক স্কুল ছাত্রীকে কীটনাশক প্রয়োগ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।  রবিবার ভোর রাতে ওই স্কুল ছাত্রী নগরীর নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রী মারা যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত স্কুল ছাত্রীর নাম তুলিকা মন্ডল (১৭)। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শতরূপা গ্রামের মৃত অরুণ মন্ডলের মেয়ে। অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়নের বাদামতলা গ্রামের দেবপ্রসাদ রায়ের ছেলে রাজু রায় (২০)’র সাথে তুলিকা মন্ডলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সূত্র ধরে গত প্রায় সাত মাস আগে রাজু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তুলিকাকে তার বাড়িতে আটকে রাখে। এরপর তুলিকার পরিবারের সদস্যরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় । গত ১২ নভেম্বর তুলিকা কীটনাশক পান করেছেÑবলে কথিত রাজু মোবাইল ফোনে তার ভাই অনুপকে খবর দিয়ে বলে, ‘তুলিকার অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক রয়েছে তাকে নিয়ে যান’। এরপরের দিন শুক্রবার তুলিকা দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে তার মায়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে ৫ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু তার মা শনিবার যাওয়ার কথা বলে। এরই মধ্যে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তুলিকাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু রাজুর পিতা দেবপ্রসাদ রায় তাকে বুকে ব্যথার কথা বলে গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর বেসরকারি নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সে মারা যায়। নিহত তুলিকা মন্ডল কয়রা উপজেলার এনএজিডি কান্তারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে খবর পেয়ে গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে গেলে লাশ রেখেই রাজুর বাবা-মা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। তুলির মামাতো ভাই গৌর বর্মন ও খালাতো ভাই সঞ্জিৎ মন্ডল অভিযোগ করেন, কীটনাশক পান করিয়ে তাদের বোনকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনা ইউনিটের সমন্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দাকোপে ঘটেছে, সে কারণে দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করা হবে। তবে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


Spread the love