খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনি সাসপেন্ড

86
Spread the love

4122খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে প্রজ্ঞাপন জারি করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে দু’টি মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় এ প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন গতকাল সোমবার বিকেলে এক ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে পাঠানো হয়েছে। কর্পোরেশন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এদিকে খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অগ্নিসংযোগ ও আইনী কাজে বাধা এ দু’টি অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। প্রথম মামলাটি দায়ের হয় বিগত ২০১৩ সালের ২৬ নভেস্বর। মামলাটির অভিযোগপত্র (নং- ১০৪ ও ১০৪ এর (ক)) আদালতে গৃহীত হয় ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল। ওই একই থানায় অপর একটি মামলা দায়ের হয় গত ২০১৪ সালের ৪ জানুয়ারি। যার নং-৫। এ মামলার অভিযোগপত্র (নং-১৫৯) আদালত কর্তৃক গৃহীত হয় ২০১৫ সালের ৩১ মে। সূত্রে জানা যায়, মেয়র মনির বিরুদ্ধে ফোজদারী মামলায় এসব অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হলে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯’ এর ৬০নং আইনের ধারা, ১২ এর উপধারা-১১ মোতাবেক এক প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল সোমবার বিকেলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এক ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে এ তথ্য জানানো হয়। মনিরুজ্জামান মনি খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। খুলনা সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, গতকাল বেলা তিনটা পর্যস্ত মেয়র অফিস করেন। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে তিনি অফিস ত্যাগ করেন। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, মেয়রের বিরুদ্ধে আদালতে দু’টি মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক, রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং গাজীপুরের মেয়র এম এ মান্নানকেও একইভাবে বরখাস্ত করা হয়। তারা সবাই বিএনপি’র নেতা। বিএনপি’র অভিযোগ, তাদের দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দিতেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ‘মিথ্যা’ মামলা দিচ্ছে। নগর বিএনপি’র নিন্দা ও প্রতিবাদ : খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রদত্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এই বহিষ্কারকে অন্যায়, বেআইনী, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসামূলক এবং বর্তমান সরকারের ফ্যাসিস্ট ও এক ব্যক্তির শাসনের ভয়াবহ রূপ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৬২ হাজার ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এই বহিষ্কারাদেশ। সারা বাংলাদেশে বিএনপি’র লাখো লাখো নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে সিটি মেয়র, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ শত শত জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতার ও বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে আওয়ামী সরকার জনগণের রায়কে পদদলিত করেছে। বিএনপি দলীয় জন প্রতিনিধিদের বহিষ্কার করে সরকার সকল ক্ষেত্রে দখলদারীত্ব বজায় রাখতে চায়। বিএনপি নেতৃবৃন্দ খুলনা সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সাময়িক বহিষ্কারে সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশ বেআইনী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যে দুই মামলায় চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে তা রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা। আদালতে চার্জশীট দাখিলের পর যা এখনো গৃহিত হয়নি। অথচ সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক বিগত ৩১ মে তারিখে গৃহীত হয়েছে যা সম্পূর্ণ অসত্য। নেতৃবৃন্দ এ ধরনের অসত্য প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই, নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাহারুজ্জামান মোর্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মুশাররফ হোসেন, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, আঃ জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম মেঝভাই, ফখরুল আলম, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, সিরাজুল হক নান্নু প্রমুখ।


Spread the love