গত ১৪ দিনে রাঙামাটিতে ৫১৫ মামলা, ২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা অর্থদন্ড, চিকিৎসাধীন- ৩৭৫ জন : শিথিল করার পর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক

24
Spread the love

নির্মল বড়ুয়া মিলন, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি :: করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমনের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রথম পর্যায়ে ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল ৭ জুলাই বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ২য় পর্যায়ে ৭ জুলাই মধ্যরাত হতে ১৪ জুলাই দিবাগত রাত ১২ টা পর্যন্ত সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষনা করা পর পবিত্র ঈদুল আযাহা উদ্যাপন, জনসাধারনের যাতায়ত, ঈদ পূর্ববতী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গত ১৪ জুলাই বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত আরোপিত সকল বিধি-নিষেধ শিথিল রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে এ সময়ে সর্ববস্থায় জনসাধারনকে সর্তকাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা ২১টি শর্ত দিয়ে গত ৩০ জুন ও ২য় বার ৫ জুলাই সময়সীমা বর্ধিত এবং ১৩ জুলাই করে করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯)-এর বিস্তার রোধকল্পে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেন।
২ বারে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শিথিল করার পর প্রথমদিন গতকাল ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি, ভেদ ভেদী, কলেজ গেইট, বনরুপা, পুরতন বাস ষ্টেশন (দোয়েল চত্বর মোড়), ইন্দ্রপরী সিনেমা হল মোড়, রিজার্ভবাজার ও তবলছড়ি বাজার এলাকায় সকাল থেকে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। শহরের মধ্যে জনসাধারনের চলাচল ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৪ দিনে সকল বিধি-নিষেধ শিথিল করার পর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক।
রাঙামাটি জেলা শহরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল সরকারি অফিস খোলা ছিল এছাড়া সকল সরকারি, বে-সরকারি অফিস খোলা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষনা অনুযায়ী সকল ব্যাংক খোলা ছিল ব্যাংকিং লেন-দেন হয়েছে।
শহরের বনরুপা, তবলছড়ি ও রিজার্ভবাজার এলাকায় সকল মার্কেট, দোকান-পাট খোলা ছিল।
তবে কঠোর লকডাউনের পর প্রথমদিন শহরের বনরুপা, তবলছড়ি ও রিজার্ভবাজার এলাকায় জনসমাগম কয়েক গুণ বেশী ছিল। উপেক্ষা করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। কঠোর লকডাউন শিথিলকালিক প্রজ্ঞাপনে সর্তকাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে কিন্তু এ বিধি মানা হচ্ছে অনেক কম তাই রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় করোনা সংক্রামন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাঙামাটি জেলা শহর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সকল রুটে দুরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি কম থাকায় নৌপথে যান চলাচল সীমিত রয়েছে।
রাঙামাটিতে সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল-মোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর ১৫ জুলাই থেকে পূণঃরায় খোলা রাখা হয়েছে।
বিধি-নিষেধ শিথিল রাখার প্রজ্ঞাপনে সর্ববস্থায় জনসাধারনকে সর্তকাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে এবিষয়টি প্রথমদিন কার্যকর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করতে দেখা যায়নি।
এদিকে করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমনের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রথম পর্যায়ে কঠোর লকডাউন চলাকালিন ১ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে গত ১৪ জুলাই বুধবার পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় মোট ১৪৬ টা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় সরকারি নির্দেশনা পালন না করায় ও মাস্ক পরিধান না করায় ৫১৫ টি মামলা, ২,০৭,০০০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়। কেবলমাত্র রাঙামাটি সদরে ৭৯ টা মোবাইল কোর্ট, ২৫২ মামলায় ১,২৫,৭০০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়।
জেলা সদরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং কাউখালী, রাজস্থলী, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মাছুমা বেগম।
এছাড়া করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমনের বর্তমান পরিস্থিতি চলাকালিন ১৪ জুলাই বুধবার পর্যন্ত রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাবে মোট নমুনা পরিক্ষা ১৪২১২ জন, মোট রোগী সনাক্ত ২০৩৬ জন, মোট মৃত্যু ২০ জন, ১ম ডোজ ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে ৩৬৫৫৪ জনকে, ২য় ডোজ ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে ১৮৮৮১ জনকে, নতুন সনাক্ত সদর উপজেলা-১৮জন, কাপ্তাই উপজেলা-৫,লংগদু উপজেলা-৫, বিলাইছড়ি উপজেলা-২, নানিয়ারচর উপজেলা-১। রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমিত বর্তমানে মোট ৩৭৫ জন চিকিৎসাধীন আছে।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা ফোকাল পার্সন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।


Spread the love