গাইবান্ধায় ভয়াবহ আকারে ডায়রিয়ার প্রকোপ : ৮৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

71
Spread the love

image_2085_263744গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা জেলা শহর ও শহরতলিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাপক আকারে ডায়ারিয়ার প্রকোপ শুরু হয়েছে। গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে এখনও ৮৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে ৩০ জন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে শহরের পৌর এলাকার থানাপাড়া ও খানকা শরিফ এলাকার কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দুটি মেসের কয়েকজন বাসিন্দা প্রথমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর থেকে ওই দুটি পাড়াসহ পশ্চিমপাড়া, কলেজ রোড, পলাশপাড়া, মাস্টারপাড়া, বানিয়ারজান ও গাইবান্ধা পৌর এলাকার অন্যান্য এলাকার ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করে। গভীর রাতেই মুহূর্তের মধ্যেই গাইবান্ধা হাসপাতালের স্বল্পসংখ্যক ডায়রিয়ার বেড ছাড়িয়ে আক্রান্ত ডায়রিয়া রোগীরা হাসপাতালের মেঝে, করিডরে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়। অথচ এ সময় হাসপাতালে জরুরি বা কোন ওয়ার্ডেই কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিলেন না। শুধু দু’জন নার্স এবং গুটি কয়েক ওয়ার্ডবয় গোটা হাসপাতালজুড়ে চিকিৎসা কার্যক্রম দেখাশোনা করেন। মুহূর্তের মধ্যেই হাসপাতালে সঞ্চিত সামান্য স্যালাইনের স্টকও শেষ হয়ে এক দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা জানান, এসব এলাকার পৌরসভার সরবরাহকৃত ও টিউবওয়েলের পানি পান করে তারা রাত থেকে সকালের মধ্যই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। পানি পানের সাথে সাথেই প্রচন্ড পেট ব্যথা, বমি ও অবিরাম পাতলা পায়খানা হতে শুরু করে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এই ডায়রিয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব না হলেও রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে শুনে এবং অবস্থা দৃষ্টে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে টিউবওয়েল এবং সরবরাহকৃত পানি পানে হঠাৎ করেই এই ডায়রিয়ার প্রকোপ শুরু হয়েছে। বন্যার পানি কোন কারণে এই সমস্ত উৎসে সম্পৃক্ত হওয়ার ফলেই পানি জীবাণুযুক্ত হয়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মো: আব্দুস সামাদ, পৌরসভার মেয়র শামছুল আলম, সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা পিয়ারুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা এড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তারা হাসপাতালের বিরাজমান অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধের স্টক না থাকা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিসহ সার্বিক অব্যবস্থাপনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় রোগীদের সাথে আসা লোকজনও অব্যবস্থায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে পৌর মেয়র শামছুল আলম হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ করলে জরুরি চিকিৎসা অব্যাহত থাকে।


Spread the love