গাবতলীতে কৃষকের আঙ্গিনা জুড়ে মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত ও চলছে নবান্ন উৎসব

309
Spread the love

VLUU L100, M100  / Samsung L100, M100

বগুড়া থেকে আল আমিন মন্ডল : বগুড়াসহ গাবতলী উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আমনধান কাটা-মাড়াই। ফলন ভাল হওয়ায় খুশি কৃষক পরিবার। ফলে কৃষকের ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব।
জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ পৌরসভায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ১৭হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০হাজার ৫শত মেট্রিক টন (ধান)। যা গতবছরের চেয়ে প্রায় ৫শত হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এছাড়াও আউশধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন ছিল ৩শ ৮০হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন ছিল ১হাজার ৫শত ৯৬মেট্রিক টন (চাল)। যা গতবছরের চেয়ে ১শত হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ করা হয়। কৃষি বিভাগ আশা করছেন এবছরে আমনধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ফলে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে আমনধান সংগ্রহে কৃষক-কৃষানিরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দিনমজুর সংকটসহ মূল্যেবৃদ্ধি পেলেও কৃষক পরিবারগুলো এখন দম ফেলানোর সময় নেই। কৃষকের আঙ্গিনা জুড়ে এখন মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত। নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে কৃষক পরিবার। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে এখন কৃষকরা আমনধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। কাগইল কৈঢোপ গ্রামের কৃষক আলমগীর, রনজিত, নজরুল, হিজলী গ্রামের আইযুব আলী জানান, এবছরে পরিবেশ অনুকুল ও ধান ক্ষেতে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় আমনধানের ভাল ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমনধান চাষ ও উৎপাদন বেড়েছে। ধানগাছে পোকা থেকে রক্ষা করতে পাচিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে কোন কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমন করা সম্ভব হয়েছে। পীরপাড়া গ্রামের কৃষক বুলু, দড়িপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন  জানান, প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মন ধান পেয়েছি। এখন ধানের ন্যায্যমূল্যে পেলেই আমরা খুশি। তাই তারা আমন ধানের ন্যায্য মূল্যে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষে থেকে সার্বক্ষনিক পরামর্শের ফলে এবছরে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যাবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল হক মন্ডল জানান, উপজেলা জুড়ে পুরোদমে কৃষকরা সোনালী আমনধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে। এবছরে ধানের ভাল ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কাগইল ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জাহিদ, মোছাঃ আকতার জাহান ও জান্নাতি মহল তুলি জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় আমরা সবসময় কৃষকদের পরামর্শ ও তথ্য দিয়ে আসচ্ছি। ফলে গাবতলীতে আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে। এখন কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব।


Spread the love