গোলাপগঞ্জে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

71
Spread the love

11885307_1089583644392638_358455656678763984_n-300x211নোমান মাহফুজ গোলাপগঞ্জ সিলেট প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক অবহেলিত জনপদে ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান ও পানি বন্ধি ৬০ হাজার মানুষ । আজ থেকে ৪০ বছর পূর্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার দৃপ্ত প্রত্যশা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সমস্যা যেন বিদ্যালয়টির পিছু ছাড়ছে না। কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি এতদিনে হাজার হাজার আলোকিত মানুষ সৃষ্টি করলেও অবকাঠামোগত সমস্যা বিদ্যালয়টিকে পশ্চাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিবারই অভাবনীয় ফলাফল বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জল করে তুলছে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের একেবারে পূর্বপ্রান্তে কুশিয়ারা নদীর তীরে দরিদ্র জনগোষ্টির আবাস ভূমি ইসলামপুরে নানাবিদ সমস্যা নিয়ে ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৭ সালে ঐ গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করেছিল। ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি পূনঃনির্মিত হলেও অবকাঠামো ও ভবন সমস্যা প্রতিদিনই শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘœতা সৃষ্টি করছে। ২৫৩ জন শিক্ষার্থীর এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবারে সমাপনী পরীক্ষায় ২টি জিপিএ-৫, ৩২টি এ গ্রেড সহ অংশগ্রহণকারীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। বিগত ক’বছর ধরে শতভাগ ফলাফল অর্জন করে বিদ্যালয়টি গোলাপগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। বর্ষা হলেই স্কুলের সামনে পানি জমে শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্বক বিঘœতা সৃষ্টি করে সেই সঙ্গে খেলার মাঠটিও খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় অনেক ঝুকিঁর মধ্যে কাদাঁ ও পানি উপর দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। ৪ জন শিক্ষক সরকারীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও এলাকাবাসীর সহায়তায় আরো ২জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকারী সুযোগ সুবিধা পেলে ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলার প্রথম সারির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হবে বলে এলাকার অনেকেই আশাবাদী। এদিকে বানবাসি মানুষের ভোগান্তি পানি বন্ধি ৬০ হাজার মানুষ। অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে গোলাপগঞ্জে সুরমা কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঐসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই হাজার একর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সুরমা কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙে বানের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় অনেকে বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি রয়েছেন। নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠান গুলো পাঠ দানের অযোগ্য হওয়াতে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জ পৌরশহর, ঢাকাদক্ষিণ বাজার, বুধবারীবাজার, চন্দরপুর, আছিরগঞ্জ, বুধবারীবাজার মাদ্রাসা, ডেপুটি বাজারসহ বেশ ক’টি হাট বাজারে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ১০ গ্রাম, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ ৪টি, আমুড়া ইউনিয়নের ঘাগুয়াসহ ৩টি, বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কালিজুরী, ছয়ত্রিশ গ্রামসহ ৮/১০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় কাচা ঘর বাড়ির ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। নদীপারের অনেক স্থানে দোকান পাট, বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বন্যা কবলিত লোকজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কৃষকরা গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে, মাঠ ঘাট ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের দারুন সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত লোকজনের মধ্যে বেশির ভাগ লোক কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহচ্ছেন। বিশেষ করে নিচু এলাকার রাস্তাঘাট পানি নিচে যাওয়ায় জনচলাচলের বিঘœতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করে বিভিন্ন হাট বাজার থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় প্রবাসীদের উদ্যোগে ত্রানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর বাদেপাশা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক রেহান উদ্দিন রায়হান জানান, তার এলাকায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। কিছুদিন পুর্বের বন্যায় সকল ফসলাদি তলিয়ে যাওয়ার পর বীজ তলার শেষ সম্বল দিয়ে কৃষকেরা আবারো ফসল সাজালে বন্যার পানি সব কিছু ধুলিস্বাৎ করে গেছে। ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের কুশিয়ারা তীরবর্তী ইসলামপুর গ্রামের রাস্তা পানি তলিয়ে যাওয়ায় জনচলাচলে বিপত্তি ঘটেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধানের সাথে আলাপ করে জানা গেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে যে সকল বিদ্যালয় ও যাতায়াতের রাস্তায় পানি উঠেছে সেসকল বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। অনেক স্থানে পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়ায়, দূর থেকে লোকজন পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বুধবারীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম আছকির জানান, তার এলাকাকে বন্যা দূর্গত এলাকা হিসাবে ঘোষনার জন্য ইতি পূর্বে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কালিজুরী প্রভাতী সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছবর উদ্দিন জানান, কালিজুরী ফুটবল মাঠ সংলগ্ন অপরিকল্পিত স্লুইস গেইট নির্মানে এলাকা জুড়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত দিনে এমন ভয়াবহ বন্যা হলেও এমন ভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হত না। ঘাগুয়া গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা ফখরুল ইসলাম জানান তার গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় খেটে খাওয়া মানুষেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় লোকগুলো আরো বেশি কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। অতিবর্ষনের কারণে প্রধান মন্ত্রী কর্তৃক সদ্য উদ্বোধনকৃত চন্দরপুর সুনামপুর সেতুর পূর্ব পাড়ের এপ্রোচ রোড ধ্বসে গিয়ে পিচ ভাঙতে শুরু করেছে। বুধবারীবাজার ও বিয়ানীবাজার, মাথিউরা ইউনিয়নের বিভাগীয় শহরে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বহরগ্রাম শিকপুর ফেরী সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে ফেরীর সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম জানান মাত্রাতিরিক্ত পানি বৃদ্ধি পেয়ে পন্টুন পানি গভীরে চলে যাওয়ায় ফেরী চলাচল বিঘœ ঘটছে। উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজ নাজমুল ইসলাম জানান তিনি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত এলাকায় ত্রানের জন্য সুপারিশ করেছেন। বিভিন্ন সামাজি সংগঠন গুলো বন্যা দুর্গতদের পাশে দাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহন করছে বলে জানা গেছে।


Spread the love