গ্রন্থ পর্যালোচনা

57
Spread the love

ছয়ফুল আলম পারুল :
গ্রন্থের নামঃনাইওরী
গ্রন্থের প্রকৃতিঃউপন্যাস
গ্রন্থকারঃদিলারা রুমা
প্রথম প্রকাশঃবই মেলা-২০২১
প্রচ্ছদঃআইয়ূব আল আমিন
অঙ্গসজ্জাঃশেখ মোহাম্মদ শাহিন
প্রকাশকঃআনিসুল হক লিখন
লিখন প্রকাশন,২১৮ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
পরিবেশকঃমোঃজসিম উদ্দিন
জসিম বুক হাউজ আম্বর খানা পয়েন্ট, সিলেট।
আরও অনেকে—!
মুদ্রণঃজেরিন’স প্রিন্টার্স
অনলাইন পরিবেশকঃ www.rokomari.com
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ১৫৮
মূল্যঃ৩৫০/-টাকা
ISBN:978-984-94078-7-4
শোভন ব্যাঞ্জনাময় প্রচ্ছদে মানসম্মত জেল বাঁধাই জেকেট কাভারে অফসেট কাগজে চমৎকার উপস্থাপনায় প্রবাসী লেখিকা দিলারা রুমার অষ্টম গ্রন্থ “নাইওরী” উপন্যাস খানা।
রুচি সম্মত প্রকাশনার উদাহরণ হিসেবে আমি গ্রন্থটিকে সানন্দে স্বীকৃতি দিতে চাই। গভীর অনুভবে অনুসন্ধিৎসু সমাজ মনস্ক সুশীল চৈতন্যে জীবন সচেতনতা নিয়ে গ্রন্থ খানা সৃজন করেছেন লেখিকা। কোনপ্রকার ব্যকরণিক বলয়াবদ্ধতায় জড়াননি গ্রন্থটিকে।সমাজের কঠিন বাস্তবতা শিথিল গ্রন্থির সম্পন্ন মনোনভবের সুস্মিতি প্রতিটি চরিত্রের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছে। জীবন চলমানতার সরল রৈখিক পথ,আঁকাবাঁকা অথবা বন্ধুর পথ পরিক্রমায় অসঙ্গতি, বাঞ্চিত-অবাঞ্চিত,গ্রহণযোগ্য-অগ্রহণ যোগ্য, শীতল-উষ্ণ,অনুকুল-বৈরী,সর্বাবস্থায় প্রাত্যহিকে এবং সামগ্রিকে যে জীবন, তাকে আঁকতে চেয়েছেন প্রবাসী লেখিকা তাঁর মমতার কলমে।সঙ্গত ভাবেই প্রথাবদ্ধতা গ্রাস করতে পারেনি তাঁকে বরং অনায়াসে স্বাচ্ছন্দ্যে তিনি নিজস্ব অক্ষরেখায় আপনানন্দে পথপরিক্রমন করেছেন। গ্রন্থখানা চারটি সঙ্গীতিক দ্যোতনায় বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে।আরও জীবন চেতনায় চিরঞ্জীবিতায় সত্যেচ্চারণে প্রগলভ হয়ে উঠেছে।বেদনার রোরুদ্রমানা অন্তঃসলিলা ফল্গু সুপ্রকাশ মানোন্নয়নতায় অপরূপ বৈদগ্ধ্যে স্নাত হয়ে উঠেছে।গ্রন্থটিতে লেখিকা দিলারা রুমার মাঝে আমি অমিত সম্ভাবনা দেখি এজন্যেই। শোভন গ্রন্থটি হাতে নিলেই শুভ্রানুভূতিতে আচ্ছন্ন হবে মন।পারিবারিক সম্পর্ক, মানবীয় অনুভব, হার্দ্য সম্পর্ক, পল্লীজীবন, সংকট,বিভাজন, আত্মিকতা,দ্বান্দ্বিকতা,ভিলেজপলিটিক্স, সহজিয়া জীবনবোধ, প্রাত্যহিকতা এবং জীবন চলমানতার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াবলী গ্রন্থটির মূল উপজীব্য। গ্রন্থটির শেষ ফ্ল্যাপে আশাবাদী বক্তব্য রেখেছেন প্রকাশক আনিসুল হক লিখন, প্রায় ১০ ফর্মার গ্রন্থের মূল্য যৌক্তিক। শুভেচ্ছার ফুল হস্তে আমি আশাবাদী প্রবাসী লেখিকার অব্যাহত অগ্রযাত্রায়।লেখিকার স্বীয় কথন থেকে বুঝা যায় “নাইওরী” শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে ক্ষণিকের অতিথি, এ পৃথিবীর পান্থশালায় আমরা সকলেই ক্ষণিকের অতিথি মাত্র।
মূলত উপন্যাস গ্রন্থটিতে প্রেমের পরিস্ফুটন ঘটেছে দুটি পর্বে, প্রথম পর্বে প্রেম ও পরিণয় সুইটি ও সমীর বাউলের মাঝে।তারা একত্রে কাজ করতো “সোনালী অপেরা হাউজে” সাংসারিক টানাপোড়েন, ঝগড়া-বিবাদে সুইটিকে ছেড়ে চলে যায় সমীর বাউল নিজ গ্রাম শিমূল পুরে সেখানে মদীনা বানুর সাথে দেখা প্রেম ও দ্বিতীয় বিয়ে।মদীনা বানুর গর্ভে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয় সমীর বাউলের, নাম তার “অমিত”। বর্ণিত আছে ১৯৭১ সালের কথা রাজাকার আফিজ আলী পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে লুটপাট করে ধনী হয়ে পরবর্তীতে নামে উপাধি লাগায় চৌধুরী। এই পাকিস্তানীদোসরের ঘরে দিন মজুরি কাজ করে হাসান আলী, তার মেয়ের নাম রুনা,সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক, জরিনা হাসান আলীর স্ত্রী।আফিজ আলী চৌধুরীর দুই ছেলে ইরফান ও আকাশ চৌধুরী, ইরফান চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচন করে হেরে যায় অমিতের বন্ধুর কাছে। সমীর বাউলের ছেলে অমিত সৎ ও সাহসী শিক্ষিত যুবক, তার মা মদীনা বানু পরোলোক গমন করেন। সমীর বাউলের প্রথম স্ত্রী সুইটি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরীর সুবাদে সমীর বাউল ঢাকায় চলে যায়। শিক্ষিত অমিত ও রুনা প্রথমে প্রেমে আবদ্ধ হলেও ভুল বুঝাবুঝির কারণে অবশেষে পরিনয় ঘটেনি লম্পট আকাশ চৌধুরীর প্ররোচনায়। শেষে শিক্ষক রুনা আফিজ আলী চৌধুরীর লম্পট ছেলে আকাশের টাকার লোভে তার প্রেমে ফেঁসে যায় পরে হয় পরিণয়।পরে শারীরিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিয়ে ভেঙ্গে রুনা চলে যায় স্বেচ্ছায় নির্বাসনে, নিজেকে বদলাবার জন্যে। উপন্যাসের সমাপ্তি হয় সমীর বাউলের শেষ বচনের মধ্য দিয়ে–
” এই আমরা দুনিয়ায় আইছি কয় দিন থাকবো? দুনিয়ায় আসা একটা নাইওর।এখানে সবাই আমরা “নাইওরী”। এই বচনের মাধ্যমে উপন্যাস খানা নাম করণের স্বার্থকতা পেয়েছে।
উপন্যাসটির বহুল প্রচার ও পাঠক প্রিয়তা কামনা করি।
ছয়ফুল আলম পারুল
সভাপতি
জসিম বুক হাউজ
সাহিত্য পরিষদ,আম্বরখানা পয়েন্ট
সিলেট।


Spread the love