গ্রামবাংলার অপরুপ শোভার অধিকারী কাশফুল এখন বিলুপ্তির পথে

107
Spread the love

ss-17বগুড়া থেকে আল আমিন : গ্রামবাংলার প্রকৃতির অপরুপ  শোভা ও সৌন্দর্য্যরে অধিকারী কাশবন এখন আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কাশফুল। যুগযুগ পেড়িয়ে গেলেও গ্রামবাংলার নদ-নদীর ধার, ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গল, পুকুর, খাল-বিল, ঈদগাঁহ মাঠ ও ফাঁকা জায়গায় পথচারীদের  দৃষ্টি কাটতে কাশফুলের হালকা বাতাস জেন দোলা দেয় সবার হ্নদয়কে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে মানুষের হ্নদয় ছুয়ে যেত কাশফুলের সৌন্দর্য্য।ে মনটা বেশ খুশিতে থাকত। খোলা আকাশে উড়ে যেত নানা প্রজাতির পাখি। বহুযুগ থেকে বগুড়ার গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় রহরহ কাশফুল ফুটলেও এখন আর চোখে পড়ে না চিরচেনা কাশফুলের এমন দৃশ্যে। ফলে অনেকে কাশফুলকে ভুলতে বসেছে। তবে উপজেলার রামেশ্বরপুর, কাগইল, সোনারায়, নেপালতলী, নাড়–য়ামালা এলাকায় কাশফুল ফুটলেও গতবছরে নেপালতলী ও সোনারায় এলাকায় কাশফুলের দৃশ্যে চোখে পড়েছে। সেসময়ে একটি ঈদগাঁও মাঠে কাশফুল ফুটতে দেখে সাংবাদিক আল আমিন মন্ডলের মনটা নাড়া দেয়। সে তৎক্ষনিক ক্যামরাবন্দী করেন কাশফুলের এমন দৃশ্যে’কে। অন্যদিকে এবছরে বিভিন্ন এলাকায় কাশফুল ফুটেছে। তবে আইন-শৃংঙ্খলা উন্নয়নে রাস্তায় চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই রোধে রাস্তার দু’পার্শ্বে কাশফুল কেটে পরিষ্কার করা রয়েছে এমনটায় জানিয়েছেন এলাকার সচেতনমহল। তারা আরো জানান, কাশফুলসহ রাস্তার দু’পার্শ্বে জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার থাকলে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সড়ক দূর্ঘটনা কমে যাবে। এছাড়াও গ্রামবাংলার কাশফুল গাছ শুকিয়ে ঘরের বেড়া ও ছাউনি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অল্পসংখ্যক কাশফুল চোখে পড়লেও চাহিদা রয়েছে কয়েকগুন। এ গাছটির এতগুন থাকার পরেও গাছ বা বাগান করাসহ সংরক্ষণ ও রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেই। কাগইল এলাকার কাশফুল বাগান মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আমি কাশফুল থেকে যে পরিমান গাছ পাই সে গাছ পরিবারের কাজে ব্যবহারের পরেও বাঁকী কাশফুলের গাছ শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করে প্রতিবছর বেশ লাভবান হতে পেরেছি। প্রতিদিন কাশফুল বাগানে  বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখাযেত। পাখি ও ফুল দেখে মনটা ভাল থাকে। তবে এবছরে জায়গা না থাকায় কাশফুলের বাগান নেই। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি, নদ-নদী ভরাট, পতিত স্থান ও উচু জমি  হ্রাস পাওয়ায় কাশফুল কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃতির অপরুপ শোভা দানকারী ও সৌন্দর্য্যরে প্রতীক কাশবন (ফুল) এখন বিলুপ্তির পথে। এবিষয়ে গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, কাশফুল গ্রামবাংলার শোভা দানকারী প্রিয় ফুল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে দাবিদার কাশফুল। কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা নাজমুল হক মন্ডল জানান, কাশফুল ফাঁকা স্থানে জন্ম নেয়। কাশফুলের গাছগুলো মানুষের জন্য খুব উপকারী। গাবতলী উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, কাশফুল একটি গুরুত্বপূর্ন গাছ বা বাগান। ব্যক্তি পর্যায়ে কাশবন বা কাশফুলের গাছ সংরক্ষণে কৃষকদের মাঝে গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এমনকি কাশফুল বা বাগান ব্যক্তি, সংগঠন, সরকারী দপ্তরের বনবিভাগ ও বেসরকারী পর্যায়ে সংরক্ষণ করতে জোরদার দাবী জানিয়েছেন সচেতনমহল।


Spread the love