চট্টগ্রাম নগরীতে ছুরিকাঘাতে তিন যুবক খুন

73
Spread the love

vftচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নগরীতে পৃথক দুটি ঘটনায় ছুরিকাঘাতে তিন যুবক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জন নিহত হয় নগরীর পাঁচলাইশ থানাস্থ হামজারবাগে। অপরজন মারা যায় ডবলমুরিং থানাধীন পোস্তারপাড়ে। হামজার বাগ এলাকায় দু’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত দু’জন হল কাউসার (২০) ও ইয়াসিন (১৮)। গতকাল রাত নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা থাইফুড নামে একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তারা নগরীর বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হল সজিব (২০), ফারুক (২০), সাগর (১৮) ও মহরম (১৯)। এদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তবে একটি সূত্রে বলা হয়েছে, আটক চারজনও নিহত দু’জনের সহকর্মী। পাঁচলাইশ থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি খুন দু’টি প্রেম সংক্রান্ত কারণে ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন মাহমুদ আজাদীকে বলেন, কাউসারকে রাতে হামজারবাগের এম এ নাজিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মৃত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। আর ইয়াসিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী বায়েজিদ থানার আমিন জুটমিল এলাকায়। হামজারবাগের সংঘর্ষে আহত হয়ে পালানোর সময় সে মারা যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত দুজনের শরীরেই ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, থাই ফুড এর এক মহিলা কর্মীকে ভালোবাসতো সজিব। এ নিয়ে তার সাথে সহকর্মীদের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। মহরম, ফারুক ও সাগরকে সাথে নিয়ে সজিব মেয়েটিকে তুলে আনতে গেলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা সম্ভব হয়নি। আটকদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, হামজারবাগ থেকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত একজনকে রাত নয়টার পর জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিচয় জানা যায়নি। এর আধঘণ্টা পর আমিন কলোনি থেকে ইয়াসিনকে আনা হলে তাকেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান পঙ্কজ বড়ণ্ডয়া। এদিকে নগরীর ডবলমুরিং থানার পোস্তারপাড় এলাকায় বদিউজ্জামান সাগর (১৯) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক খুন হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে গার্মেন্টস ছুটির পর নিচে নামলে দুর্বৃত্তরা তার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পুলিশের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আবু হামিদ জানান, ইফতারের আগ মুহূর্তে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাগর গাইবান্ধার গাছগাঁও গ্রামের শফিয়াল হক প্রকাশ বাবুল মিয়ার ছেলে। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশির আহমদ খান আজাদীকে জানান, স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে আয়রন ম্যান পদে কাজ করত সাগর। সে ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর ওই কারখানায় কাজ নিয়েছিল। টাইগার পাস এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত সে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাগরের সঙ্গে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আগে কিছু ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। এর জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান এবং মামলার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি বশির আহমদ খান।


Spread the love