চাটমোহরের বাতাসী মন্ডলের কষ্ট কথা

128
Spread the love

batasi-mondol-300x188ইকবাল কবীর রনজু : বয়সের ভারে নুয়ে পরেছে বাতাসী মন্ডল (৭৫)। বয়স হয়েছে, কাজ করার সক্ষমতা কমে এসেছে তাতে কি? পেটকে তো আর বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরও ¶ুধা মেটাতে খাদ্যের প্রয়োজন। কাজ না করলে খাদ্য আসবে কোথা থেকে। তাছাড়া অসুখ বিসুখে ওষুধ পত্র, প্রয়োজনীয় কাপর চোপড়ই বা পাবে কোথায়? তাই বয়সের বাঁধাকে ডিঙিয়ে রোদ বৃষ্টিতে ভেজা পোড় খাওয়া শরীর নিয়ে কিছু কচুর লতি, খানমান অথবা কচু শাক নিয়ে ৮ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিয়ে সপ্তাহের দুইদিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার মির্জাপুর হাটে যেতে হয় এই বাতাসী মন্ডলকে। গত রবিবার মির্জাপুর হাট সংলগ্ন গুমানী নদী পারে কথা হয় বাতাসি মন্ডলের সাথে। কচুর লতি শাক পাতা ধুচ্ছিলেন তিনি নদীর পানিতে। তিনি জানান, ৫ সন্তানের জননী তিনি। বাড়ি চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা (হঠাৎ পাড়া) গ্রামে। ¯^ামী গোপাল মন্ডল গত হয়েছেন ¯^াধীনতা যুদ্ধের কিছুদিন পরই। যুদ্ধের সময় ¯^ামী সন্তানসহ আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতের শরনার্থী শিবিরে। যুদ্ধের শেষে দেশে ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পরই তার ¯^ামী মারা যান। দুই ছেলে চুনী লাল ও কিরন এবং এক মেয়ে চপলা ভারতে বসবাস করছেন। আর দুই ছেলে রন্জু মন্ডল ও অরুন মন্ডল গুনাইগাছা গ্রামেই থাকেন। বাতাসি ছেলে রনজু মন্ডলের সাথেই বসবাস করে আসছেন। যে ছেলে মেয়েদের পেটে বয়েছেন, পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখিয়েছেন, দুধ পান করিয়েছেন, দায়িত্ব নিয়ে বুকে পিঠে করে বড় করেছেন সেসব ছেলে মেয়েরা এখন তার ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নেন না। এর পরও ছেলেদের মঙ্গল কামনা করেন তিনি। নিজের খাওয়া পরা ওষুধ পত্রের জন্য শাক পাতা তুলে হাটে বিক্রি করতে হয় তাকে। একটা ঘর ছেলের। সেখানেই বারান্দায় থাকতে হয় তাকে। মাঝে মধ্যে ছেলের বৌয়ের সাথে ঝগড়া বিবাদ হলে রাজ্যের মান অভিমান ভীড় করে বাতাসির মনে। তখন দু চার দিনের জন্য অন্যত্র চলে যান। মনের রাগ ক্ষোভ অভিমান কমলে আবার ফিরে আসতে হয় সেই বৌমার কাছেই। কোথায় যাব? কে নেবে দায়িত্ব ? তাই ফিরে আসতেই হয় বাবা। বয়ষ্ক ভাতা পান। তবে অনিয়মিত। তিনি জানান, ৫ মাসের ভাতা পাই নাই। কষ্টে দিন কাটছে। কত জনের কাছে একটা কাপুড় চাইলাম কেউ দিল না বলেই নিজের প্রায় ছেড়া কাপড়টি দেখিয়ে তিনি বলেন এই কাপুড় কি পরা যায়? বাবা হাটের বেলা হয়ে যাচ্ছে। সকালে কিছুই খাই নাই। বলে পাশে রাখা মুড়ির টোপলা হাতে তুলে নেয় বাতাসি। রওনা হয় হাটের ভেতর। এক সময় হাটের মানুষের ভীড়ে মিশে যায় বাতাসি। এমনি ভাবে চলতে চলতে হয়তো একদিন তার ¯^প্ন গুলো শেষ হয়ে যাবে চিতার আগুনে পুড়ে পূড়ে।


Spread the love