চিত্রনায়ক জসিমের ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

98
Spread the love

SM1বিনোদন ডেস্ক : দেশীয় চলচ্চিত্রের এক সময়কার জনপ্রিয় নায়ক জসিমের ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৮ সালের এই দিনে অসংখ্য ছবির ভিলেন এবং পরবর্তীতে নায়ক জসিম মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। খলনায়ক চরিত্রের মাধ্যমে জসিম চলচ্চিত্রে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে আবির্ভাব। আশির দশকের দিকে পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘সবুজ সাথী’ ছবিতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে নতুনভাবে আলোড়ন তোলেন। মোটাসোটা চেহারা কোনভাবেই তার নায়কচিত জনপ্রিয়তায় বাধা হতে পারেনি। খুব দ্রুত জসিম দর্শকদের প্রিয় নায়ক এবং পুরো চলচ্চিত্র জগতের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠেন। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জসিম।

অভিনেতা, প্রযোজক ও মারপিট পরিচালক ছিলেন জসিম। আসল নাম তার আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। ১৯৭৩ থেকে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন। ঢাকার ছায়াছবিতে এই জসিমই প্রথম মারপিট শুরু করেন। নতুন ধারার যে মারপিট সৃষ্টি করেন তা ছিল ঠিক অবিকল হিন্দি ছবি থেকে ধার করার মতোই। আমজাদ খান অভিনীত ‘সোলে’ ছবির আদলে ঢাকায় নির্মিত হয় ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিটি। ‘সোলে’তে আমজাদ খানের যে চরিত্রটি ছিল ঠিক সেটাই করেছিলেন জসিম ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতে। এ জন্য জসিমকে ‘সোলে’ ছবিটি প্রায় ২০ বার পর্যন্ত দেখতে হয়েছিলেন। জসিম যখন ফিল্মে যোগ দেন তখন থেকেই ঢাকায় হিন্দি ছবির কাহিনী চুরি করে ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়ে গেল। জসিমকেও ওই সময় বেশ কিছু নকল ছবিতে অভিনয় করতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রতিভাগুণে জসিম একটা ভিন্ন স্টাইল সৃষ্টি করেছিলেন। ছবিতে জসিম থাকা মানেই মারপিট—এটাই দর্শকরা মনে করতেন। ১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ ছবিতে অ্যাকশন ডিরেক্টর হিসেবে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করেন এই জসিম। সেই সময় জসিমের অভিনয় দেখে অনেকেই তাদের নবজাত ছেলে সন্তানের নামটি পর্যন্ত রাখতে শুরু করেন ‘জসিম’। প্রথমদিকে তিনি ছিলেন খলনায়ক। পরে হলেন নায়ক। ববিতা, সুচরিতা, শাবানা, রোজিনা, নাসরিনসহ সেই সময়ের সফল নায়িকা তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন।
জসিমের জন্ম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার কেরানীগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে। লেখাপড়া করেন বিএ পর্যন্ত। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে একজন সৈনিক হিসেবে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। দুই নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে লড়েছেন তিনি।

নায়ক হিসেবে জসিম এর জনপ্রিয় ছবিগুলো হলো ‘ মোহাম্মদ আলী ‘, ‘রকি’, ‘হিরো’, ‘অশান্তি’ , ‘বৌমা’ , ‘স্বামীর আদেশ’ , ‘টাকা পয়সা’ , ‘অভিযান’, ‘পরিবার’, ‘সারেন্ডার’, ‘ভাই আমার ভাই’, ‘ভাইজান’, ‘গর্জন’, ‘বিজয়’, ‘লালু মাস্তান’, ‘অবদান’, ‘ন্যায় অন্যায়’ , ‘লোভ লালসা’, ‘আদিল’, ‘কাজের বেটি রহিমা’ , ‘উচিৎ শিক্ষা’, ‘লক্ষ্মীর সংসার’, ‘মাস্তান রাজা ‘ , ‘কালিয়া’, ‘ওমর আকবর’, ‘ দাগি সন্তান’, ‘ সম্পর্ক’ , ‘শত্রুতা’, ‘নিষ্ঠুর’ , ‘পাষাণ’, ‘হিংসা’, ‘ভাইয়ের আদর’ , ‘হাতকড়া’ , ‘ডাকাত’ ‘ বাংলার নায়ক’, ‘রাজাবাবু’, ‘রাজাগুণ্ডা’ , ‘ঘাত প্রতিঘাত ‘ ‘স্বামী কেন আসামী’ সহ অসংখ্য অসংখ্য ছবি যা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে চিরকাল । জসিম শুধু নামেই নয় কাজেও বারবার প্রমান করেছিলেন তিনি আসলেই ‘বাংলার নায়ক ‘ যার শুন্যতা আজো পূরণ হয়নি ।


Spread the love