চিরিরবন্দরে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত ৩

72
Spread the love

chirirbandar bdচিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসনের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত । ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দিয়েছেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসের তিন কর্মচারীকে গত ২৯ ফেব্রুয়ারী সাময়িক বরখাস্ত করেন জেলা প্রশাসক। তারা হলেন, উপজেলা স্টেনোটাইপিস্ট দিলীপ কুমার রায়, অফিস সহায়ক সুফিয়া আক্তার এবং নিরাপত্তা প্রহরী জগবন্ধু দত্ত। জেলা প্রশাসকের চিঠিতে বলা হয়েছে, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসের প্রধান অফিস সহকারী মিলে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে ভুয়া বিল-ভাউছারের মাধ্যমে প্রথমে প্রকল্পের ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে আবার ১৪ সালের শেষে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং হাটবাজারের ১ কোটি ২৮ লাখ টাকাসহ মোট ৫ কোটি টাকা ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়েও দুর্নীতি ঘটেছে। এসব ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আফতার উদ্দিন মোল্লা জেলে থাকার সময় যুবলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যানের লিটু মিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। দিনাজপুরে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. ইমতিয়াজ হোসেন। ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘সরকারি অর্থের জবাবদিহি নির্বাহী কর্মকর্তাকে করতে হবে। কারণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকতে সরকারের এতগুলো টাকা উত্তোলন হয়ে গেল, তা তিনি জানবেন না, এটা ঠিক না।’ তিনি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।’ চিরিরবন্দরের সাবেক ইউএনও ও বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমি ২০১২ সালে যোগদান করার পর থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে লক্ষ্মীপুরে বদলি হয়ে আসি। এরপরে জেলা প্রশাসকের পত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম ৩৩টি চেকের মাধ্যমে আমার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হযেছে। এসব টাকা উত্তোলনে তার স্বাক্ষর ছিল না বলে দাবি করে মিজানুর রহমান বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমাকে জানিয়েছেন আরো ৫ বছর আগে থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর বিরুদ্ধে আমি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। এ বিষয়ে চিরিরবন্দরের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিরোজ মাহমুদ বলেন, আমি যোগদান করার পরে ঘটনাটি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত কমিটি ও তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।


Spread the love