চিলাহাটি দিয়ে তিন দফায় ৩৪৭ জন ভারতে গমন

73
Spread the love

nhডিমলা নীলফামারী প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৬৮ বছর বন্দীদশা জীবনের মুক্তির পর অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ী অভিবাসন সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাটিতে পা রাখেন। পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রথম দফায় ১৩টি পরিবারের নারী,পুরুষ ও শিশুসহ ৪৮জন। দ্বিতীয় দফায় ২৮টি পরিবারের নারী,পুরুষ ও শিশুসহ ১৪৭ জন এবং তৃতীয় দফায় ৩০টি পরিবারের নারী,পরুষ ও শিশুসহ ১৫২ জনসহ মোট ৭১টি পরিবারের ৩৪৭ জন ভারতে গমন করেছে। চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্ত পথে বাংলাদেশের প্রশাসনের দেয়া বাসে চেপে ও মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাকসহ তারা ভারতের সীমান্তে প্রবেশ করেছে। এসময় ভারতে অভ্যান্তরে ঢুকে পড়েন ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ফাষ্ট সেক্রেটারী মিঃ রমাকান্ত গুপ্ত। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারত গমনকারীদের স্বাগত জানিয়ে গ্রহণ করা হয়। এ সময় নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুজিবুর রহমান, নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল জিএম সারোয়ার, ডোমার উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া, ডোমার নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা,পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, পঞ্চগড় ও নীলফামারী নাগরিক অধিকার সম্বনয় কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে ছিলেন কুচবিহারের জেলা শাসকের এডিএম আয়শা রানী, এসডিএম রঞ্জন ঝা,বিএসএফের ৫৮ ব্যাটালিয়ানের ডিপুটি কমান্ডার একে ঝা, কাষ্টম সুপার সন্দীপ ব্যার্নাজী, ভারত ইউনিটের নাগরিক অধিকার সম্বনয় কমিটির সভাপতি দ্বীপ্তিমান গুপ্ত প্রমুখ। ভারত সীমান্তে পা রাখার পূর্বে ভারত গমনকারীদের কান্না বিজরিত কন্ঠে বলতে শুনা যায়, বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে আলোর মুখ দেখালেন। আমাদের আ-মৃর্ত্য মনে থাকবে এবং কখনই বেঁচে থাকাবস্থায় ভূলতে পারবো না। তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ছিটবাসীদের জন্য অনেক সংবাদ লিখেছেন। আমরা আপনাদের কাছেও চিরকৃতজ্ঞ। আপনাদের কারনে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় ৬৮বছরের বন্দীদশা জীবন থেকে রক্ষা পেয়ে নিজ দেশ ভারত ফিরে পেলাম। চিলাহাটি ইমিগ্রেশনের উপ-সহকারি পরিদর্শক (এএসআই) খুরশেদ আলম জানান, ট্রাভেল পাশধারী বিলুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকগণ তিন দফায় ৭১টি পরিবারের ৩৪৭জন বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের স্থায়ীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। বুধবার ( ২৬ নভেম্বর) ১০৮ জন এই পথে ভারতে প্রবেশ করতে পারে বলে। ভারত যেতে ইচ্ছুক এই ৪ দফায় কেউ পিছিয়ে পড়লে তাদেরকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত গমনের সুযোগ দেয়া হবে। উল্লেখ্য,চলতি বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দীদশা জীবনের মুক্তি মিলে ভারত বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহল বাসিন্দাদের। যার মধ্যে ১১১টি বাংলাদেশের এবং বাকী ৫১টি ভারতের ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হয়। এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারী জেলায় ৪টি। বাংলাদেশের অভ্যান্তরে থাকা ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে ৯৭৯ জন মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব নিতে আবেদন করেন। তারাই মুলত ভারত গমন করছেন।


Spread the love