জিম্বাবুয়ের নাটকীয় জয়

90
Spread the love

ss-25ক্রীড়া প্রতিবেদক ঢাকা : লো স্কোরিং ম্যাচটাই জমিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল বুঝি টাইগাররা ১৩৫ রান পুঁজি নিয়েও জিতে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়কে অভ্যাসে পরিণত করা মাশরাফি বিন মর্তুজার দল পারল না। জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯.৫ ওভারে পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। এক বল বাকি থাকতে সফরকারীরা করে ১৩৬ রান। তাতেই এল্টন চিগাম্বুরার দল পেয়ে যায় ৩ উইকেটের নাটকীয় জয়। রোববার মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নেমে এনামুল হক বিজয়ের ৪৭ রানের সুবাদে ৯ উইকেটে ১৩৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পায় জিম্বাবুয়ে। আর এই জয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করল সফরকারীরা। স্বল্প পুঁজি নিয়েও স্বাগতিকদের বোলিংয়ের শুরুটা অবশ্য দুর্দান্তই হয়েছিল। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে পর পর দুই বলে জিম্বাবুয়ের ২ উইকেট তুলে নেন আল-আমিন হোসেন। ওই ওভারের প্রথম বলে সিকান্দার রাজাকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে পরিণত করেন আল-আমিন। পরের বলে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে শন উইলিয়ামসকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের এই পেসার। আল-আমিনের পর আরেক পেসার মুস্তাফিজুর রহমানও তার প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন। রেগিস চাকাভাকে সাব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত করেন ‘কাটার মুস্তাফিজ’ খ্যাত এই তরুণ তুর্কি। ফলে ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এরপর দলীয় ৩৩ রানে মাশরাফি-নাসিরের নৈপুণ্যে রান আউটে কাটা পড়েন ক্রেইগ আরভিন (১৫)। মাশরাফির থ্রো থেকে স্টাম্প ভেঙে দেন বোলার নাসির। স্কোরবোর্ডে আর ৬ রান যোগ হতেই আরাফাত সানীর বলে ‘ডাক’ মেরে বিদায় নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা। ৩৯ রানে ৫ উইকেট হারালেও পঞ্চম উইকেটে লুক জংউই ও ম্যালকম ওয়ালারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ফিফটি রানের জুটি গড়েন দুজন। তবে এর পরই বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন আল-আমিন। জংউইকে (৩৪) ফিরিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। স্কয়ার লেগে অসাধারণ এক ক্যাচ নেন ইমরুল কায়েস। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১৮ রান প্রয়োজন ছিল জিম্বাবুয়ের, হাতে ৬ উইকেট। তবে শেষ ওভারের প্রথম বলেই ম্যালকম ওয়ালারকে (৪০) ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জল করেছিলেন নাসির হোসেন। কিন্তু পরের চার বলে দুটি ছক্কা ও এক চারের সাহায্যে ১৮ রান নিয়ে জিম্বাবুয়েকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন নেভিল মাদজিভা। ১৯ বলে ২টি ছক্কা ও ৩টি চারে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন এই ডানহাতি। এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ২০১১ সালের পর টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল মিলে ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালোই করেছিলেন। ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৬ রান জমা করেন দুজন। তবে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে দুজনই সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে তামিমের বিদায়ে ভাঙে ৩৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। মাদজিভার বলে চিগুম্বুরার হাতে ক্যাচ দেওয়া তামিম ১৫ বলে ২টি ছক্কা ও এক চারে ২১ রান করেন। পরের ওভারে শন উইলিয়ামসের দুর্দান্ত এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। তার ইনিংসে ছিল ২টি চারের মার। এরপর এনামুলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। তবে ২৪ রানের জুটি গড়ার পর সাজঘরে ফিরে যান মুশফিক। ক্রেমারের বলে সুইপ করতে গিয়ে ডিপে উইলিয়ামসের হাতে ধরে পড়েন মুশফিক (৯)। মুশফিকের বিদায়ের পর চতুর্থ উইকেটে এনামুলের সঙ্গী হন সাব্বির রহমান। দলকে ভালোই এগিয়ে নিতে থাকেন দুজন। তবে ক্রেমারের একটি বল সুইপ করতে গিয়ে সাব্বির এলবিডব্লিউ হলে ভেঙে যায় ৩৯ রানের ভালো জুটি। সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। সাব্বির ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের স্কোর ১০০ পার করেন এনামুল। কিন্তু তাকে যোগ্য সঙ্গ ব্যর্থ হন নাসির। দলীয় ১১৩ রানে মাত্র ৩ রান করেই বিদায় নেন নাসির। এরপর মাহমুদউল্লাহ (৮) ও মাশরাফিও দ্রুতই বিদায় নিলে ১৭.৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১২৪ রান। দলীয় ১৩০ রানে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন আরাফাত সানী (৫)। আর শেষ ওভারের চতুর্থ বলে এনামুল রান আউটে কাটা পড়লে ১৪০ রানের কোটাও আর পূরণ হয়নি স্বাগতিকদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৫ রান করে বাংলাদেশ। ৫১ বলে ৩টি চারের সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন এনামুল। এ ছাড়া তামিম ২১, সাব্বির ১৭ ও ইমরুল ১০ রান করেন। দলের আর কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ৩০ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সেরা বোলার তিনাশে পানিয়াঙ্গারা। এ ছাড়া ক্রেমার ও মাদজিভার ঝুলিতে জমা পড়ে ২টি করে উইকেট। বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে দারুণ এক জয়ও এনে দিলেন এই মাদজিভা।


Spread the love