জেলহত্যা দিবস আজ

74
Spread the love

bdaস্টাফ রিপোর্টার : আজ ৩ নভেম্বর, শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। পচাঁত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় এই দিনটি। বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক ভয়াবহ কলংকের দিন- জাতীয় চার নেতার মহাপ্রয়াণের শোকাবহ দিন আজ। পনেরই আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্ধকার প্রকোষ্টে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ ও অপর দুই মন্ত্রী এম. মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত খন্দকার মোশতাকের প্ররোচণায় কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটায়। অবৈধ পথে ক্ষমতারোহীরা স্বাধীনতার চেতনাকে চিরতরে নির্মূল করার লক্ষ্যে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নীল নকশা তৈরী করে। তারপর ৩ নভেম্বর সুবহে সাদেকের সময় সামরিক পোশাকধারী নরপিশাচরা হামলা চালায় কারাগারে। তাদের বুলেটের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল সেদিন নিস্তব্ধ কারাগার। ঘাতকের বুলেটে ঝাঝরা করে দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম চার রূপকারের বুক। চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া হয় তাদের কন্ঠ। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের মুজিবনগর সরকারের সমধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কুকীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনীদের বিচার করা যাবে না মর্মে-দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পচাঁত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকান্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে। সেই থেকে প্রতি বছর শোকাবহ এই দিনটি জাতি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করে আসছে। রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সোমবার পৃথক বাণী দিয়েছেন। শোকাবহ জেল হত্যা দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন ও জাতিকে নেতৃত্বহীন করার লক্ষ্যে জাতির পিতাকে হত্যার ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘একথা অনস্বীকার্য যে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার পাশাপাশি জাতিকে নেতৃত্বহীন করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কারাবন্দী অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় ৪ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।’ তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ দিন। আবদুল হামিদ বলেন, ঘাতকচক্রের উদ্দেশ্য ছিল দেশে অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের উত্থানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা। কিন্তু ঘাতকচক্রের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর আদর্শ চিরজাগরুক থাকবে। এই দিনে রাষ্ট্রপতি জাতীয় চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেছেন, মানবতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে ৩ নভেম্বর একটি কলঙ্কিত দিন। তিনি জাতীয় চারনেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, কারাগারের অভ্যন্তরে এ ধরনের বর্বর হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্টে জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ড ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলার মাটি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের সেই ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যাকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদাতারা পরবর্তী ২১ বছর দেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। তিনি বলেন, এছাড়া একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে সমুন্নত রেখেছে। কোন ষড়যন্ত্রই তাদের সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয় ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবস।


Spread the love