টাইব্রেকারে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

98
Spread the love

image_2071_261704স্পোর্টস ডেস্ক : টাইব্রেকারে ছোটরা পারলেও যুবারা পারলোনা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নেমে ছিল বাংলাদেশ-ভারত। টাইব্রেকারে বাংলাদেশকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ভারত। উল্লেখ্য গত ১৯ আগস্ট ভারত অনূর্ধ্ব-১৬ দলকে পরাস্ত করে নতুন যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ কিশোর দল। তাদের পথ ধরে অনূর্ধ্ব-১৯ দল গতকাল সেমির এ হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে গোলশূন্য অবস্থা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। নির্ধারিত সময়ের পরও গোল না হলে পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায় ম্যাচ। ম্যাচটি দেখতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সহ-সভাপতি তাবিথ আওয়াল মাঠে উপস্থিত হন। প্রথম পাঁচটি শটে দুইদলের স্কোর ছিল ৩-৩। প্রথম শট নিতে আসা ভারতের দূত্যি গোলবারের উপর দিয়ে মেরে দিলে আর বাংলাদেশের প্রথম শট থেকে জনি স্কোর করলে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় শটে ভারত স্কোর করে। আর নিজেদের দ্বিতীয় শটে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখেন রোহিত। তৃতীয় শটেও ভারত গোল আদায় করে নেয়। বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় শট নিতে আসা ইব্রাহিমের শটে কোনো গোল হয়নি। চতুর্থ শট থেকে আবারো গোল আদায় করে ভারত। নিজেদের চতুর্থ শট নেন বাংলাদেশের ইমন। তিনিও গোল আদায় করতে পারেননি। নির্ধারিত পঞ্চম শটে বল বারে লাগলে গোল পায়নি ভারত। তবে, নিজেদের পঞ্চম শটে ঠিকই গোল আদায় করেন রাব্বী। নির্ধারিত পাঁচ শটের পর পেনাল্টি গড়ায় সাডেন ডেথে। প্রথম শট থেকে গোল করে ভারত। তবে, নিজেদের শটে রহমত মিয়া গোল করতে না পারলে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জয় পায় ভারত। প্রথম থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণের মধ্য দিয়ে খেলা এগুতে থাকে। মধ্যমাঠের শক্তি প্রয়োগে দুই দলই সমানে সমান লড়তে থাকে। ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় বাংলাদেশের ডি-বক্সে আক্রমণ চালায় ভারত। তবে, লাল-সবুজদের শক্ত ডিফেন্স চিড়ে কোনো সুবিধা আদায় করে নিতে পারেনি তারা। পরের মিনিটে ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে নেওয়া ভারতের একটি শট রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান।
১৬ মিনিটে মানাফ রাব্বী- মোহাম্মদ ইব্রাহিম গোলের সুযোগ পেয়েও ভারতের ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। তবে, ১৯ মিনিটের মাথায় রাব্বীর দারুণ চমক দেখতে পান উপস্থিত দর্শকরা। চারজনকে একাই কাটিয়ে প্রায় মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে যান ভারতের সীমানায়। তবে, বাঁ পায়ের দুর্বল শটটিতে কোনো লিড নিতে পারেননি রাব্বী। প্রথমার্ধের বাকী সময়ে কোনো গোল হয়নি। বিরতির পর আবারো লড়াই চালিয়ে যায় দুই দলের ফুটবলাররা। খেলার ৬৩ মিনিটে ইমন বাধা না দিলেও রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় ভারত। এ যাত্রায় লাল-সবুজদের তৈরি শক্ত দেয়াল ভাঙতে পারেনি সৈয়দ সাবির পাশার শিষ্যরা। ৭৪ মিনিটে রোহিতের লম্বা পাসে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ভারতের ডি-বক্সে প্রবেশ করেন রাব্বী। তবে, গোলবারে শট নেওয়ার আগেই অফসাইটের ফাঁদে পড়েন তিনি। ম্যাচের ৯০ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে ভারত শট নিলে আবারো তাদের গোলবঞ্চিত করেন বাংলাদেশের গোলবারের নিচে দাঁড়ানো আনিসুর।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে আবারো দলকে রক্ষা করেন আনিসুর। নির্ধারিত সময়ে কোনো গোল না হলে পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায় বাংলাদেশ-ভারতের সেমিফাইনাল। সাডেন ডেথের শুটআউটে জয় পায় ভারত। নেপালের কাঠমান্ডুর ললিতপুরে আনফা কমপ্লেক্সের কৃত্রিম টার্ফে খেলতে নামে বাংলাদেশের কিশোররা। সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। শুধু ফাইনালে নয়, গ্রুপপর্বের ম্যাচেও ভারতকে হারায় ছোট টাইগাররা। এর আগে গ্রুপপর্বে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করে বাংলাদেশ। তবে, গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে স্বাগতিক নেপালের কাছে হেরে গ্রুপের রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। অপরদিকে, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে উঠে ভারত।


Spread the love