টাঙ্গাইলে শিল্প পার্ক নির্মাণ করবে বিসিক

118
Spread the love

BCSICসফিক আহমদ : টাঙ্গাইলে আরও একটি শিল্প পার্ক নির্মাণ করবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গতকাল শিল্প পার্ক নির্মাণসহ ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, টাঙ্গাইল শিল্প পার্কে ২৮০টি প্লট থাকবে। ২০১৭ সালের মধ্যে ৫০ একর জমিতে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিল্প পার্কে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ২৫০টি শিল্প ইউনিট স্থাপনে সহায়তা দেবে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে অবকাঠামোগত সুবিধা, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ এবং গ্যাস সুবিধা দেওয়া হবে। টাঙ্গাইলে ২৩ একর জমির ওপর বিসিকের একটি শিল্পনগরী রয়েছে। বিসিকের কর্মকর্তারা বলেছেন, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু থাকায় টাঙ্গাইলের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পশ্চিম দিকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত স্থানে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। শিল্প পার্ক হতে পণ্য ও কাঁচামাল আনা-নেওয়ার জন্য সড়ক ও রেল যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। কাজেই শিল্প খাতের সম্ভাব্যতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বেগবান করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২শ’ ১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ১শ’ ১৮ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা।

এ ছাড়া বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১০৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের (ফেজ-৩) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫শ’ ৯৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৪৫ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ভূমির ওপর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পল্গান্ট নির্মাণ করা হবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, রাজধানীর মোট জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। তাদের প্রতিদিনের পানির চাহিদা দৈনিক ২২০ কোটি লিটার।

এর মধ্যে ২০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রতিনিয়ত এ চাহিদা বাড়ছে। ২০৩৫ সালে প্রতিদিন পানির চাহিদা হবে ৫২৬ কোটি লিটার। এসব দিক বিবেচনা করে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় একটি আঞ্চলিক প্রজনন কেন্দ্র নির্মাণ ও উপকেন্দ্রের গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো হবে। গতকালের বৈঠকে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা হয়েছে। এর আওতায় চট্টগ্রামে ১৪ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আরও একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রায় ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা এবং গোমতী সেতুকে সব ধরনের ঝুঁকিমুক্ত করা হবে। সেনাবাহিনী ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করবে। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে_ বগুড়া জেলার সরিয়াকান্দি উপজেলাধীন যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজসহ বিকল্প বাঁধ নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকার রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্প।


Spread the love