ঠাকুরগাঁওয়ে জাল নোটে ক্ষতিগ্রস্ত. হাজার ও মানুষ

80
Spread the love

taka-500x363মোঃ তোফায়েল ইসলাম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : আর ক’দিন পরেই. কুরবানীর     ঈদ।  আর ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন  হাটবাজারে ছড়িয়ে পড়েছে ১০০০, ৫০০ ও ১০০ টাকার জাল নোট। জাল নোট আসল-নকল বুঝতে না পেরে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। নকল টাকায় মালামাল বিক্রি করে বিক্রেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকায় ১৬ আগস্ট বিকেলে পাঁচটি মুরগি বিক্রি করতে আসেন সদর উপজেলার কালিতলা গ্রামের সলিমউদ্দিন। এক যুবক তার কাছ থেকে ৮০০ টাকায় সবগুলো মুরগি কিনে ১০০০ টাকার একটি নতুন নোট ধরিয়ে দেন। নোটটি পকেটে নিয়ে বৃদ্ধ যুবকটিকে ২০০ টাকা ফেরত দেন। এরপর বৃদ্ধ ওই ১০০০ টাকার নোটটি নিয়ে যান শহরের বাসস্ট্যান্ড বাজারে। সেখানে ওই টাকায় প্রয়োজনীয় পোশাক  কিনার পরের দোকান দারকে  তিনি টাকা দেন | তিনি জানতে পারেন সেটি জাল টাকা। সলিম বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতে বাড়ির মুরগিগুলো বিক্রি করলাম। কিন্তু প্রতারক চক্র সে ইচ্ছা পূরণ করতে দিল না। এর বিচার আল্লাহ করবেন।’ ১৬ আগস্ট রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ হাটে কেনাকাটা করতে এসে চারটি জাল ১০০০ টাকার নোটসহ এক যুবক ধরা পড়েন। লোকজন যখন পুলিশে খবর দিতে চেষ্টা করছিলেন, তখন সুযোগ বুঝে ওই যুবক পালিয়ে যান। ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, এক ব্যক্তি ১ হাজার ৭৫০ টাকার কাপড় কিনে তিনটি ৫০০ টাকার নোটসহ আরও ২৫০ টাকা দিয়ে চলে যান। পরে টাকা গুনতে গিয়ে একটি ৫০০ টাকার জাল ধরা পড়ে। ঝামেলা এড়াতে ওই জাল নোটটি পুড়িয়ে ফেলেছি।’ঠাকুরগাঁও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র বাজারে ১০০০, ৫০০ ও ১০০ টাকার জাল নোট ছড়াচ্ছে। বেকার যুবক ও নারীরা এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে ক্রেতা সেজে এসব জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাল নোট শনাক্ত করার কোনো মেশিন না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আর মেশিন না থাকার এ সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র। ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগ জানান, সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়ন থেকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জনগাঁও গ্রামের হরিমোহন শীল নামের জাল নোটের এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তখন তার কাছে ১০০০ টাকার ৭০টি জাল নোট পাওয়া যায়। সদর থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে ইয়াবা ও জাল নোট ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখন বিপণি কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়িয়ে জাল নোট পাচারকারীদের ধরার চেষ্টা চলছে। কোরবানির পশুহাটে জাল নোট শনাক্তের যন্ত্র বসানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।’


Spread the love