ঠাকুরগাঁও এক গাছেই একটি বাগান

46
Spread the love

IMG_0638মোঃ তোফায়েল ইসলাম ,ঠাকুরগাঁও : ঘুরে আসা কিছু কাহিনী এই. আসাধারন ঘটনা ঘটেছে দেশের উত্তর জনপদে। । রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাচীন গ্রাম হরিনমারী। কৌতুহলের বিষয় হলো  এই সাধারণ আমগাছ সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে  এই গ্রামেই মাথা উঁচু করে নিজের অবস্থান ঘোষণা করছে এই আমগাছটি। এই আমগাছটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। এটি এখন এই অঞ্চলের মানুষের অন্যরকম বিনোদন।কেউ কেউ গাড়ি রিজার্ভ করে দলবেঁধে, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মালিক গাছটির আশপাশে বসার ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং, টয়লেটের ব্যবস্থা করেছেন। অবশ্য এসব সুবিধার বিনিময় মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গাছটির নিয়মিত যতনোও  নেওয়া হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এই বিশাল গাছটির বয়স দুশ’ বছর। জদিও এই বয়স ব্যপারে কিছুটা আদিমতম রয়েছে  গাছটি দেখাশোনা করছেন শরিফ উদ্দিনের দুই ছেলে নুর ইসলাম এবং সাইদুর রহমান। বাড়ির বাইরে থাকায় সাইদুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে  নুর ইসলামের বাবার দাদা এই গাছটি লাগিয়েছিলেন। গাছটির পাশেই তাঁর চায়ের দোকান। চা খেতে খেতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। আলাপে জানা যায়, ৭৪ শতাংশ ভূমিজুড়ে এই গাছটির ডালপালা বিস্তৃত। গাছটির অসংখ্য ডালপালার মধ্যে ১৯টি ডাল কাণ্ড থেকে বের হয়ে কিছু দূর গিয়ে মাটিতে হেলে পড়েছে। যেগুলো দেখতে একেকটি আলাদা গাছের মতো। আর এ কারণেই দূর থেকে এই গাছটিকে একটি ছোট আমবাগানের মতোই মনে হয়। আজব আম গাছ! অতভুত বিষয় হলো গাছটি এখনও ফলবান। গাছটির অনন্য বৈশিষ্ট্য থাকায় এর আমের চাহিদাও অনেক। তাই মুকুল ধরার সময় এলেই আম ব্যবসায়ীরা আগাম টাকায় গাছটির ফলের আনুমানিক মূল্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত লিজ নিয়ে নেন। এর মূল্য হবে এক লাখ টাকার কাছাকাছি। সূর্যাপুরী জাতের এই গাছটি থেকে এখনও  প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মণ আম পাওয়া যায়। কাঁচা অবস্থায় এই গাছের আম অত্যন্ত টক। পাকা অবস্থায় এর স্বাদ সুস্বাদু। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই গাছের ব্যাপারে তাঁদের রয়েছে বেশ উচ্ছ্বাস। নূর ইসলামের ইচ্ছা আমৃত্যু তিনি যেন এই গাছটির দেখাশোনা করতে পারেন।


Spread the love