ঠাকুরগাঁও ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ির মসজিদ

117
Spread the love

M---00920140203125135(1)মোঃ তোফায়েল ইসলাম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ির মসজিদ মানুষের কাছে এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। এই    মসজিদটি দেড়শ বছরের পুরনো কারুকার্যময় এ মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।   গ্রামে এর অবস্থান হলেও সাধারণ মানুষর কাছে এর আকর্ষণ আজও কমেনি। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে  একনজর দেখার জন্য এখানে পর্যটকরা ভিড় জমান মসজিদটি| যাবার রাস্তা  ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ১৫-১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জামালপুর গ্রামে অবস্থান । মসজিদটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এটি মুঘল স্থাপত্যরীতিতে তৈরি। উঁচু দিঘির উপর ৩ গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদটির চারপাশে সুদৃশ্য মিনার ও কারুকার্য খচিত। গম্ভুজসমূহ ভল্ট কায়দায় নির্মিত। স্থানীয় বয়োবৃদ্ধরা জানান, প্রথমে জমিদার আবদুল হালিম ও তার মৃত্যুর পর জমিদার নুনু মোহাম্মদ চৌধুরী ১৮৬৭ সালে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। নুনু মোহাম্মদ মারা গেলে পরবর্তীতে মসজিদটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পড়ে জমিদার এমদাদুর রহমান চৌধুরী, জমিদার করিম উদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী ও জমিদার বদিউদ্দীন আহম্মদ চৌধুরীর ওপর। জানা যায়, এর প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন হংসরাজ ও তার পুত্র রামহিত।তারা দিল্লি, আগ্রা, এলাহাবাদ ও লক্ষৌ-এ নির্মিত মুসলিম ঐতিহ্যের বিভিন্ন কারুকার্যের অনুকরণে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। তিনি নিজেই এই নকশা সংগ্রহ করেন। এর রয়েছে ৩টি গম্বুজ ও চারদিকে ৩০টি ছোট ছোট মিনার। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪১ ফুট ৬ ইঞ্চি ও প্রস্থ ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি। বারান্দা ২টি। প্রথম বারান্দার দৈর্ঘ্য ৪১ ফুট ২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১২ ফুট ৩ ইঞ্চি। দ্বিতীয় বারান্দার দৈর্ঘ্য ৪১ ফুট ২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১৯ ফুট ৫ ইঞ্চি। সামনে একটি খোলা আঙিনা। একসঙ্গে ২০০ মুসল্লি এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমান মসজিদ কমিটির সভাপতি জানান, দেশ স্বাধীনের সময় এ মসজিদের ৩/৪টি মিনার ভেঙে যায়। প্রত্নতত্ব বিভাগ সরেজমিন পরিদর্শন করে মসজিদের সংস্কারে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন সাধারণ সম্পাদক জানান, মুঘল আমলে তৈরি এ মসজিদটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এটি সংস্কার করা জরুরি। কিন্তু বর্তমান সরকার মসজিদটির উন্নয়নে বছর খানেক আগে মাত্র কিছু  বরাদ্দ দিয়েছে।  আমাদের সবার উচিত এটির ঐতিহ্য ধরে রাখা। চাইলে আাপনারা দেখে যেতে পারেন


Spread the love