ঠাকুরগাঁও শুরু হয়েছে ঐতিয্যেবাহী ধামের গান

89
Spread the love

220151031151353মোঃ তোফায়েল ইসলাম,ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও আমন ধান কাটা শুরু হতে না হতেই নবান্ন উৎসব শুরু হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে ধামের গানের আয়োজন।  বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ গানের জনপ্রিয়তা এ অঞ্চলে এখনও শীর্ষে। এ গানের মজার ব্যাপার হলো, নারী চরিত্র থাকলেও এখানে পুরুষরাই মহিলাদের কাপড় পরে লম্বা চুলের ঝুঁটি, মাথায় খোপা, নাকে নাকফুল ও কানে দুল পরে নারী সেজে অপূর্ব অভিনয় করে গান পরিবেশন করে। এ বেশে তখন তাদের চেনা দায়। ধাম অর্থ বারান্দা বা ঘর। উঠানের মাঝে কিংবা কোনো গাছতলায় উঁচু মাটির ঢিবি তৈরি করে সেখানে এ গানের আসর বসে। এ গান নাট্যপালায় থাকে শিক্ষিত-অশিক্ষিত যুবকেরা। আঞ্চলিক ভাষায় কাল্পনিক চরিত্রগুলো রচনা করা হয়। নিজেরাই কখনও পালা তৈরি করে, আবার কখনও কখনও পালার বই থেকে পালা গেয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়। এ গান শুরুর হওয়ার কথা শুনলেই এ অঞ্চলের মানুষের মনে প্রাণে-চাঞ্চল্যেও সৃষ্টি করে গ্রামের সাধারণ মানুষ যে যেখানেই থাকুক গান শুনতে চলে আসে  এ গান. উপস্থাপন করা হয়  মূলত শাস্ত্রীয়, পাঁচমিশালী ও যাত্রা পালার ঢংয়ে । অনেক আগেই হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ধামের আসর বসানো হত। কিন্তুু  এ গান এখন  হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খিস্টান, সাঁওতাল, গারো সকলেই শুনতে আসে। এ গান সাধারণত আয়োজন করে  শরতের আশ্বিন আসে শারদীয় দূর্গা উৎসবে, কার্তিকের লক্ষ্মী পূজায় ধামের গান এ অঞ্চলের শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখে। জানা গেছে  লক্ষ্মী, দুর্গা ও কালীপূজায় জেলার ৫১টি ইউনিয়নে দুই শতাধিক ধামের গানের আসর বসে। ধামের গান আয়োজকরা এ গানের দল ধরে গানের
মান-যাচাই করে সম্মানী দিয়ে থাকে। সম্মানী একশো থেকে পাঁচশো টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। জাদনা গেছে সবচেয়ে বেশি ধামের গান অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলার আকচা, মোহম্মদপুর ও রাজাগাঁও
ইউনিয়নে।  ধামের গানে পুরুষ চরিত্রটি এক অপূর্ব সৃষ্টি। পুরুষ চরিত্রটি হাস্যরস, কৌতুক, কখনও বা পুরুষ চরিত্রটি গাঁয়ের দুই ছেলে। কখনও বখাটে। আবার কখনও উপহাসের পাত্র। এ চরিত্র ঘিরে তৈরি হতে থাকে জত সব মজার মজার কাহিনি


Spread the love